রাজধানীর সবুজবাগে বিএনপি কর্মী ইব্রাহীম পলাশ (৩২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ও আত্মসমর্পণ করা চার আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে নিহত পলাশের বিচ্ছিন্ন একটি হাত উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, বিএনপি কর্মী ইব্রাহীম পলাশ হত্যার ঘটনায় গত ২১ জুলাই মো. নাঈম ও ২৭ জুলাই মো. আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পুলিশের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার মুখে মামলার প্রধান আসামি মোস্তফা হোসেন রয়েল এবং তাঁর সহযোগী মো. সবুজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে চারজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যের বরাতে পুলিশ বলেছে, ইব্রাহীম পলাশকে হত্যার কয়েক দিন আগে একটি গ্যারেজের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তাঁর সঙ্গে মোস্তফা হোসেন রয়েলের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রয়েল এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান পলাশ। এতে রয়েল ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ইব্রাহীম পলাশের দুই হাত বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২১ জুলাই সন্ধ্যায় রয়েল ও তাঁর সহযোগীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে সবুজবাগের বাগপাড়া পানির পাম্প এলাকায় ইব্রাহীম পলাশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার সময় রয়েল ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রথমে ইব্রাহীম পলাশকে কোপ দেন। এতে পলাশের ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর পলাশ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে ধাওয়া করে রাস্তায় ফেলে এলোপাতাড়ি কোপায় রয়েল ও তাঁর সহযোগীরা। একপর্যায়ে পলাশের দুই হাত দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হামলা শেষে তাঁরা বিচ্ছিন্ন হাত দুটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার পরপরই সবুজবাগ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান বিশ্লেষণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ, বিভিন্ন স্থানে অভিযান এবং অন্যান্য গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে। তদন্তে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে সবুজবাগ থানা-পুলিশ।