সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অবসরপ্রাপ্ত) উত্তম কুমার বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী কৃষ্ণা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুই মামলায়ই উত্তম কুমার বিশ্বাসকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৭৮ লাখ ৩২ হাজার ৬৯৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলা দুটি করা হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রুহুল হক বাদী হয়ে মামলাগুলো করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, উত্তম কুমার বিশ্বাস দুদকে দাখিল করা সম্পদবিবরণীতে তাঁর ওপর নির্ভরশীল ছেলেমেয়ের নামে ২ কোটি ৮১ লাখ ৩৮ হাজার ২২৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেন। এ ছাড়া নিজ নামে ১৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকাসহ মোট ৩ কোটি ১ লাখ ৩৪ হাজার ২২৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখলে রাখেন।
এ ছাড়া উত্তম কুমার বিশ্বাস নিজ নামে ও ছেলেমেয়েদের নামে পরিচালিত ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে ঘুষ, দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে ৪৩ কোটি ৭৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৯৬ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগও আনা হয়েছে।
এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২), ২৭(১) ধারা; মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২), ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
অপর মামলাটি করা হয়েছে উত্তম কুমার বিশ্বাসের স্ত্রী কৃষ্ণা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে স্বামীর ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক সহায়তায় জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৫ কোটি ৭৬ লাখ ৯৮ হাজার ৪৭০ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর নামে থাকা ৭৫টি ব্যাংক হিসাবে ২৯ কোটি ১৭ লাখ ২৪ হাজার ৭৯১ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া দুদকের প্রাথমিক নোটিশ পাওয়ার পর তিনি নিজ নামে থাকা দুটি ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সম্পদ বিক্রি করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে বেনামি কোম্পানির মাধ্যমে বিনিয়োগ দেখিয়ে সম্পদের প্রকৃত উৎস, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপনের চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় কৃষ্ণা বিশ্বাস ও উত্তম কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা; মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২), ৪(৩) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, মামলাগুলোর তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে আরও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ বা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।