বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগে করা মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আমির হামজাকে আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ সোমবার হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের বেঞ্চ তাঁকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন দেন।
আমির হামজার আইনজীবী শিশির মনির জানান, আট সপ্তাহ অথবা মামলা শেষ হওয়া পর্যন্ত জামিন দিয়ে রুল জারি করেছেন। এখন সময় করে আমির হামজা সিরাজগঞ্জ কোর্টে আত্মসমর্পণ করবেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগে আমির হামজার বিরুদ্ধে গত ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জে মামলা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হুমায়ুন কবির। ওই মামলায় আমির হামজাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছিল। তবে তিনি নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
আদেশের বিষয়ে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, মামলার ঘটনা শরীয়তপুরে। মামলা দায়ের করেছেন সিরাজগঞ্জে। যাঁর ব্যাপারে মন্তব্যের অভিযোগ তিনি মামলা দায়ের করেননি। মামলা দায়ের করেছেন তাঁর হয়ে সিরাজগঞ্জ আদালতের একজন আইনজীবী। মানহানির মামলা এভাবে করা যায় না। ভারতীয় উপমহাদেশের আইনে মানহানির মামলা তাঁকেই করতে হয়, যাঁর মানহানি হয়েছে।
গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজার বক্তব্যের ১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে আমির হামজাকে বলতে শোনা যায়, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক এবং ইসলামবিদ্বেষী, আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী। যদি বলেন তিনি জামায়াতে ইসলামী বা চরমোনাই পীরের বিরোধী—না, তিনি ইসলামবিদ্বেষী।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর দেওয়া এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আমির হামজা বলেন, ‘এই দেশে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করার জন্য নাকি মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। তাহলে মুক্তিযুদ্ধ কেন হয়েছে—আপনি বলেন। মুক্তিযোদ্ধারা এখনো বেঁচে আছেন। তাঁদের জিজ্ঞেস করেন, তাঁরা ধর্মবিদ্বেষী বা ইসলামবিদ্বেষী কি না।’
আমির হামজা আরও বলেন, ‘আমি সকাল থেকে মেডিকেলে ছিলাম। পাঁচ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না জেনারেটর চালাতে। একটি বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানুষের জীবন এখন বিপন্ন। এ ধরনের অযোগ্য মানুষদের দায়িত্ব না দিয়ে যোগ্যদের বসানো হলে এমন হাহাকার লাগত না।’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ক্লিপটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।