সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন করপোরেশনে চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে (৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড) কোটা বাতিলসংক্রান্ত পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের প্রতিবাদে এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রধান ফটকের সামনের রাস্তা অবরোধ করে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যানারে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বের হয়ে সদরঘাটগামী রাস্তাটি অবরোধ করেন।
রাস্তা অবরোধের কারণে সদরঘাটের দিকে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। এ সময় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসাইন মুন্না আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের দাবি এখনো পূরণ হয়নি। দাবি না মানা পর্যন্ত এভাবেই আমাদের আন্দোলন চলবে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আজকে বিকেলে আমরা নতুন কর্মসূচি দেব। শিক্ষার্থীরা আজ থেকে আরও বেশি আন্দোলনে যোগ দিচ্ছে।’
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, মেধাবীরা আসছে, রাজপথ কাঁপছে’, ‘মুক্তি চাই, মুক্তি চাই, কোটা থেকে মুক্তি চাই, ’ ‘এসো মোরা ভাই-বোন, গড়ে তুলি আন্দোলন’সহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
আজও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চারটি দাবি পুনরায় পেশ করেন—২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখতে হবে; ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিতে (সব গ্রেডে) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দিতে হবে এবং কোটাকে ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। সে ক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী কেবল অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে; সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্যপদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে; দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।