রাজধানীর গুলশানের কিংফিশার রেস্টুরেন্ট লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে বৈধ কাগজপত্রবিহীন প্রায় ২ হাজার ৩৫৯ লিটার বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ দল। জব্দ করা এসব পণ্যের শুল্ক-করসহ মূল্য প্রায় ৪ কোটি ৩ লাখ টাকা।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এ অভিযান চালানো হয়। এতে সহায়তা দেয় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১)।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বক্তব্য দেন সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ। এ সময় মূসক ও কর গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এনবিআর জানায়, উচ্চ শুল্কের পণ্য, বিশেষ করে অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সংগ্রহ ও বিক্রির গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। প্রায় তিন ঘণ্টার অভিযানে রেস্টুরেন্টের ওয়্যারহাউস ও ডিসপ্লেতে থাকা মদ-বিয়ারের হিসাব নেওয়ার সময় ভেতরে একটি গোপন কক্ষের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে রেজিস্টারে এন্ট্রিবিহীন বিপুল পরিমাণ মদ ও বিয়ার মজুত ছিল।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে ৮২৬ লিটার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। এর বাজারমূল্য প্রায় ৪৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হলেও শুল্ক-করসহ মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। পাশাপাশি হেইনেকেন ও হান্টারসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১ হাজার ৫৩৩ লিটার বিয়ার জব্দ করা হয়, যার শুল্ক-করসহ মূল্য প্রায় ৫০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ২ হাজার ৩৫৯ লিটার মদ ও বিয়ারের শুল্ক-করসহ মূল্য দাঁড়ায় ৪ কোটি ২ লাখ ৮২ হাজার টাকা।
অভিযানে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, মূল্য সংযোজন কর নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
প্রাথমিক তদন্তে এনবিআর জানতে পারে, প্রতিষ্ঠানটি আমদানিকারক হিসেবে নিবন্ধিত নয়। দেশীয় মদ ও বিয়ার কেনার পক্ষে সামান্য কিছু চালান দেখালেও অধিকাংশ পণ্যের কোনো বৈধ ক্রয় রসিদ বা বিদেশি মদ-বিয়ার সংগ্রহের বৈধ কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেনি।
কাস্টমস আইন, ভ্যাট আইন ও আয়কর আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।