পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। বিভাগীয় শহর ও জেলা পর্যায়ে মাসে অন্তত একটি এবং উপজেলা পর্যায়ে মাসে দুইবার করে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বুধবার ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন বস্ত্র ও পাট, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কার্য-অধিবেশন শেষে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘পলিথিনের ব্যবহার বেড়ে গেছে। এ জন্য ডিসিদের বলেছি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার জন্য। উপজেলায় প্রতি মাসে দুটো করে এবং বিভাগীয় ও জেলা শহরে মাসে অন্তত একটি করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। মোবাইল কোর্ট করতে আমরা ডিসিদের সহযোগিতা চেয়েছি।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বস্ত্র খাত থেকে এখন প্রধান রপ্তানি আয় হয়। পাট খাত অনেক নিচে ছিল। মহামারির সময় এটি চামড়া খাতকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। পৃথিবীব্যাপী আর্টিফিসিয়াল ফাইবারের ব্যবহার বেড়ে যাচ্ছে। ফলে বিশ্বে পাটের ব্যবহার বেড়ে গেছে, পলিথিন বাদে পাটের ব্যাগ ব্যবহার করছে। আমাদের রপ্তানি রেড়ে গেছে। পূর্ব পাকিস্তান থাকাকালে পাট খাত থেকে সব থেকে বেশি আয় ছিল। পলিথিন আসার পর সেই বাজার পড়ে যায়, এখন এটা আবার আসছে। আমার মনে হয় বস্ত্র ও পাট খাতে রপ্তানি করতে পারলে আমাদের অর্থনীতি আরও বড় হবে। পাটকলগুলো বন্ধ করে লিজ পদ্ধতিতে যাব। বেসরকারি খাতের হাতে ম্যানেজমেন্ট থাকবে। পাঁচটির টেন্ডার করেছি, মাসেখানেকের মধ্যে বুঝিয়ে দেব।’
১৯টি পণ্যে পাটের ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। বিষয়টি ঠিকমতো মানা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালাতে ডিসিদের অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকেও বিষয়টি নজরদারি করা হচ্ছে।