সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) সাবিনা আক্তার তুহিনকে জুলাই আন্দোলনে মিরপুরে কাপড় ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এই আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত পিপি শামসুদ্দোহা সুমন।
আজ তুহিনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম এই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের সামনে ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম ও তাঁর শ্যালক ভ্যানগাড়িতে কাপড় বিক্রি করছিলেন। এ সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালান।
হামলার সময় রাবার বুলেটের আঘাতে ওই ব্যবসায়ী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাঁকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এর কিছুক্ষণ পর একই এলাকায় কাপড় গোছানোর সময় তাঁর শ্যালকের ওপরও গুলি চালানো হয়। এতে একটি গুলি তাঁর বাঁ পায়ে লাগলে তিনি আহত হন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছোড়া টিয়ার শেলের আঘাতে তাঁর দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। পরে তাঁকে পঙ্গু হাসপাতাল ও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
গত বছরের ২২ জুন গভীর রাতে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বাবার বাড়ি থেকে সাবিনাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরদিন তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।