রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাংবাদিক সোহানা পারভিন তুলির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রফিকুল রঞ্জু নামের আরেক সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন ধানমন্ডি জোনের সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল মাসুম।
এর আগে আজ দুপুরে সাংবাদিক রঞ্জুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ধানমন্ডি জোনের কর্মকর্তারা।
এসি মাসুম বলেন, ‘নারী সাংবাদিকের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আজ একজনকে ডাকা হয়েছিল। আমরা সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখছি।’
তুলির ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তুলি যে বাসায় ভাড়া থাকতেন সেই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল সাংবাদিক রঞ্জুর। বাসাটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেয়ারটেকারের দেওয়া একটি মোটরসাইকেলের নম্বরের সূত্র ধরে এই সাংবাদিককে ডাকা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়েছে। তাঁর মোবাইলে সাংবাদিক তুলির সঙ্গে কথোপকথনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আরও কিছু তথ্য পেতে মোবাইলটি সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদের পর রঞ্জুকে পুলিশ বাসায় পাঠিয়েছে।
গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর হাজারীবাগ থানার শেরেবাংলা সড়কের বাসা থেকে তুলির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তুলিকে ফোনে না পেয়ে তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী নন্দিতা বাসায় গিয়ে দরজায় নক করে। কিন্তু ভেতর থেকে সাড়া না পেয়ে দারোয়ানের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে তুলিকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে থাকা অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি হাজারীবাগ থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। খবর দেওয়া হয় সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যদের। ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের পর তুলির মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর লাশ যশোরের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
তুলি সর্বশেষ একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে কাজ করতেন। ২০২০ সালে তিনি চাকরি ছেড়েছেন বলে জানা গেছে।