প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক লে. কর্নেল (চাকরিচ্যুত) মো. আফজাল নাছেরকে রাজধানীর ভিন্ন ভিন্ন থানার চার মামলায় পর্যায়ক্রমে টানা ৪৪ দিন রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার কোতোয়ালি থানার এক মামলায় তিন দফা রিমান্ড শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন এ নির্দেশ দেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্র অনিক কুমার দাস হত্যার চেষ্টা মামলায় ৩ দিনের রিমান্ড শেষে আফজাল নাছেরকে আদালতে হাজির করা হয়। এই মামলায় আফজাল নাছেরকে পরপর তিনবার রিমান্ডে নেওয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই কে এম শরিফুল ইসলাম তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মিছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পার হয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে গেলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অতর্কিত গুলিতে আহত হন অনিক। তাঁকে প্রথমে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
ওই ঘটনায় ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর অনিক কুমার দাস বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।
গত ২৯ মার্চ দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের একটি দল। পরে মিরপুর থানার দেলোয়ার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। ৩০ মার্চ তাঁকে ৬ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে পল্টন থানায় দায়ের করা মকবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে ৫ এপ্রিল তিন দিন, ৮ এপ্রিল আরও তিন দিন, ১২ এপ্রিল দুই দিন এবং ১৪ এপ্রিল তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। গত ১৭ এপ্রিল দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় ফের তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর ২০ এপ্রিল দেলোয়ার হত্যা মামলায় আবার তিন দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে উত্তরা পূর্ব থানায় দায়ের করা মাহমুদুল হাসান হত্যা মামলায় তাঁকে গত ২৩ এপ্রিল চার দিন, ২৭ এপ্রিল দুই দিন, ২৯ এপ্রিল তিন দিন ও ২ মে তিন দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়।
এরপর অনিক হত্যাচেষ্টা মামলায় গত ৫ মে তিন দিন, ৮ মে তিন দিন ও ১১ মে তিন দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন—