রাজধানীর পল্লবীতে চলন্ত গাড়ি থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে আলমগীর হোসেন (৪৫) ও জ্যোৎস্না নামের এক পথচারী নারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে আলমগীরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে আলমগীরকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে ল্যাংড়া রুবেল ও মুসলিমের নাম পাওয়া গেছে।
পুলিশের ভাষ্য, তাঁরা এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি। আহত আলমগীরের বিরুদ্ধেও মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পল্লবী থানার সেকশন ১১, ব্লক-বি, লাইন-২-এর ২৬ নম্বর বাসার সামনে ইমনের চায়ের দোকানের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় একটি চলন্ত প্রাইভেট কার থেকে আলমগীরকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। আলমগীর মাথা-পেটসহ শরীরের কয়েক স্থানে গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় পথচারী জ্যোৎস্না নামের এক নারীও গুলিবিদ্ধ হন। পরে আলমগীরকে প্রথমে পল্লবীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে আসা আলমগীরের চাচা মো. আশিক জানান, আলমগীরের বাসা মিরপুর সেকশন ১১-এর ৩ নম্বর রোডে। তিনি ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার বিএনপির সদস্য। পেশায় তিনি মাছ ব্যবসায়ী।
আশিক আরও জানান, বিকেলে মিল্লাত ক্যাম্পের সামনে প্রাইভেট কারে চারজন ব্যক্তি এসে আলমগীরকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তাঁদের ছোড়া গুলি আলমগীরের মাথার ডান পাশে, পেটের ডান পাশে ও নিতম্বে বিদ্ধ হয়।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, আলমগীর নামের ওই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। জরুরি বিভাগে তাঁর চিকিৎসা চলছে। তিনি মাথাসহ কয়েক অংশে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশীর বলেন, একটি গাড়ি থেকে দুর্বৃত্তরা তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে। প্রাথমিকভাবে মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হামলার পেছনের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পল্লবী ও এর আশপাশের এলাকায় আবারও গুলির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে গত মাসে মিরপুরের কাফরুলে ভাড়াটে শুটারদের গুলিতে যুবদল কর্মী ইউসুফ নিহত হন।
ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও মিরপুর মডেল থানা-পুলিশ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আটজনকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্তে ডিবি জানায়, কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার জন্য একই থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজ ভাড়াটে শুটার নিয়োগ করেছিলেন। তবে ওই হামলায় বাবু বেঁচে গেলেও গুলিতে ইউসুফ নিহত হন। আহত হন সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেন।
ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার মিশন বাস্তবায়নে ঢাকার বাইরে থেকে শুটার এনে ২৫ লাখ টাকায় ভাড়া করা হয়েছিল। গ্রেপ্তার আটজনের মধ্যে চারজন সরাসরি গুলি চালান এবং অন্যরা সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।