সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কসংলগ্ন ফুটপাতে ভাসমান দোকান বসাতে বাধা দেওয়ায় গত শুক্রবার আনসার সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এর মাত্র দুই দিনের মাথায় গতকাল রোববার রাতে উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে থাকা প্রায় এক একর সরকারি জমি দখলে নিয়েছেন হকারেরা।
পাঁচ মাস আগে উপজেলা প্রশাসন সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয় নির্মাণের উদ্দেশ্যে বাসস্ট্যান্ডের অদূরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে স্টিলের শিট, লোহার অ্যাঙ্গেল ও সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে সরকারি ওই জমি ঘিরে রাখা হয়। এখন সেই জমি চলে গেছে হকারদের নিয়ন্ত্রণে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার রাত ১২টার দিকে কয়েকশ হকার স্টিলের শিটের বেড়া ভেঙে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ের জন্য নির্ধারিত জমিতে প্রবেশ করেন। পরে তারা ছোট ছোট চৌকি বসিয়ে এবং রশি টানিয়ে দোকান বসানোর জন্য নিজেদের দখল নির্ধারণ করে অবস্থান নেন।
আজ সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম এবং সাভার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল আমিন—পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় ইউএনও হকারদের উদ্দেশে বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া সরকারি জমি ব্যবহার করা যায় না।’ বেড়া ভেঙে সরকারি জমি দখল করা অন্যায় হয়েছে উল্লেখ করে তিনি হকারদের আজকের দিনের মধ্যেই জমির দখল ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তাদের দ্রুত অন্যত্র পুনর্বাসনের আশ্বাসও দেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয় পাশের সড়কের অংশ ও সংলগ্ন ফুটপাত দখল করে হকাররা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব দোকান থেকে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রতিদিন ৪ / ৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করত।
প্রশাসন জানায়, প্রায় দেড় মাস আগে বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে হকারদের উচ্ছেদ করা হলেও তারা পুনরায় ফুটপাত দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে পৃথকভাবে ২০ জন করে আনসার সদস্য সেখানে দায়িত্ব পালন করতেন। গত শুক্রবার বিকেলে হকাররা আবারও ফুটপাত ও মহাসড়ক দখল করে দোকান বসিয়েছে—এমন তথ্য পেয়ে প্লাটুন কমান্ডার শামসুজ্জামানের নেতৃত্বে ১৪ থেকে ১৫ জন আনসার সদস্য ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের ওপর হামলা করা হয়। এতে কয়েকজন আনসার সদস্য গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সাভার থানায় তিন শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করা হয়। পরে পুলিশ ১৮ জন হকারকে গ্রেপ্তার করে।