চিকিৎসায় অবহেলা ও প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার কারণে মানিকগঞ্জের জিন্নাত আলীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৯ জুলাই দিন ধার্য করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল এই তারিখ ধার্য করেন।
আজ প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য ছিল। কিন্তু শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী মোকসেদুল হাসান মণ্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মানিকগঞ্জের জিন্নাত আলীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার ছেলে আবু হুরায়রা গত ১৪ মে মামলা দায়ের করেন। ওই দিন আদালত শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন।
মামলায় জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে হাসপাতালের কয়েকজন ওয়ার্ডবয়, নিরাপত্তাকর্মী এবং শ্যামলীর হৃদয় জেনারেল হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও রয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে জিন্নাত আলীকে জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নিয়ে যান তার ছেলে আবু হুরায়রা। সেখানে শহীদ নামে এক ওয়ার্ডবয় নিজেকে ‘বড় ডাক্তার’ পরিচয় দিয়ে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন বলে দাবি করেন এবং হাসপাতালে আইসিইউ বেড নেই জানিয়ে অন্যত্র নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে কম খরচে দ্রুত চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে রোগীকে শ্যামলীর হৃদয় জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অতিরিক্ত টেস্ট, ওষুধ ও বিভিন্ন খাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে ২৭ হাজার টাকা বিল দাবি করে রোগীকে আটকে রাখা হয়। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় আবু হুরায়রার ওপর হামলাও চালানো হয়। এমনকি বিল পরিশোধ না করা পর্যন্ত চিকিৎসা বন্ধ রাখার অভিযোগও করা হয়েছে।
পরিবারটি পরে ধারদেনা করে ১২ হাজার টাকা জোগাড় করে হাসপাতাল থেকে রোগীকে ছাড়িয়ে আবার জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করায়। তবে ওই দিন বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জিন্নাত আলী।
মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২, ৩০৪, ৩২৩ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব ধারার মধ্যে হত্যা, অবহেলায় মৃত্যু, মারধর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে।