রাজবাড়ীতে শাশুড়ি হাজেরা বেগমকে হত্যার দায়ে পুত্রবধূ ও তাঁর প্রেমিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে উভয়কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজবাড়ীর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোসাম্মৎ জাকিয়া পারভিন আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় দেন।
এ সময় মামলার আরেক আসামি কবির শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে খালাস দেন আদালত।
দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের বারবাকপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. হাফিজুর রহমানের স্ত্রী স্বপ্না বেগম ও স্বপ্নার প্রেমিক একই ইউনিয়নের কোমরপাড়া গ্রামের মো. সোহেল মিয়া।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট রাত দেড়টার দিকে পুত্রবধূ স্বপ্না আক্তারের চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাঁদের ঘরে গিয়ে দেখতে পান হাজেরা বেগম গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন। এ সময় পুত্রবধূ স্বপ্না আক্তারের শরীরে ধারালো অস্ত্রের জখম ছিল। তাঁকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় নিহত হাজেরা বেগমের স্বামী তমিজ উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে রাজবাড়ী সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তপূর্বক থানা-পুলিশ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের (পিপি) অ্যাডভোকেট উজির আলী শেখ বলেন, দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ড প্রদান করেন।