রাজধানীর কেরানীগঞ্জ ও মোহাম্মদপুরে ধারাবাহিক অভিযানে অবৈধ ইয়াবা তৈরির দুটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। অভিযানে দুটি ইয়াবা তৈরির মেশিন, ১৭ কেজি ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল এবং মোট ৩১ হাজার ২২০টি ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। এ সময় একজন ইয়াবা ডিলার ও একজন কেমিস্টকে আটক করা হয়।
আজ সোমবার দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা সাবান ফ্যাক্টরি রোড এলাকায় একটি ইয়াবা তৈরির কারখানা সন্ধান পাওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রামেল হোসেন।
রামেল হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ডিলার ফয়সাল ইসলাম মিঠুকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১১ হাজার ৭০০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব কেরানীগঞ্জের সাবান ফ্যাক্টরি রোড এলাকায় তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি অবৈধ ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পায়। সেখান থেকে একটি ইয়াবা তৈরির মেশিন জব্দ করা হয়।
পরে তাঁর দেওয়া আরও তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জের মদিনা মার্কেট এলাকায় আরেকটি অভিযানে ইয়াবা কারখানার মালিক, ইয়াবা ডিলার ও কেমিস্ট নাসিরকে আটক করা হয়। এ সময় আরও একটি ইয়াবা তৈরির মেশিন, ১৭ কেজি ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল এবং ১৯ হাজার ৫২০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নাসির নিজেই ইয়াবা উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরবরাহ করতেন। উদ্ধার হওয়া আলামত ও কাঁচামাল থেকে ধারণা করা হচ্ছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে গোপনে ইয়াবা উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, পৃথক আরেকটি অভিযানে মোহাম্মদপুরের মাদবরের বোটঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে একাধিক মামলার আসামি ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মাগুর হাসানকে একটি ওয়ান শুটার আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, তিনি এর আগে বিভিন্ন মামলায় পাঁচবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল রামেল হোসেন বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইয়াবা উৎপাদন ও বিপণন চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আরশিনগর এলাকায় আরও একটি ইয়াবা কারখানা আবিষ্কার করে র্যাব-১০।