হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।
আজ রোববার বিকেলে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এ সময় সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেন, হামের প্রাদুর্ভাব ও টিকা সংকট সৃষ্টির পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত ও অব্যবস্থাপনা দায়ী। তাঁরা অবিলম্বে সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবি জানান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি তামজীদ হায়দার চঞ্চল এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার। এতে বক্তব্য দেন সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি মেঘমল্লার বসু, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক, ঢাকা মহানগর সংসদের আহ্বায়ক আসিফ জামান এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সহ-সভাপতি কে এম আব্দুল্লাহ নিশাতসহ অন্য নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, টিকা চুক্তি বাতিলের ফলে দেশে টিকা সংকট তৈরি হয়েছে এবং এর প্রভাব জনস্বাস্থ্যে মারাত্মকভাবে পড়ছে। তাঁরা দাবি করেন, যাদের সিদ্ধান্ত ও গাফিলতির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের—সবার বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেঘমল্লার বসু বলেন, ‘দেশে হামের মতো একটি মহামারি পরিস্থিতি তৈরি হলেও সংসদে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিরোধী দল নানা অপ্রয়োজনীয় ইস্যুতে সরকারকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে, কিন্তু হাম সংকট বা মার্কিন চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তারা কার্যকর কোনো অবস্থান নেয়নি।’
মেঘমল্লার বসু আরও বলেন, ‘আমরা চিকিৎসার বাণিজ্যিকীকরণ দেখেছি। আমরা দেখেছি কীভাবে ইউনূস সরকার হামের টিকা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিল। আজ হামে শিশু মৃত্যুর দায় ইউনূস সরকারকে নিতে হবে। কাল থেকে যেন আর একটি শিশুও মারা না যায়, সরকারকে সেই দায়িত্ব নিতে হবে।’
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সহসভাপতি কে এম আবদুল্লাহ নিশাত বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার হামের টিকা চুক্তি বাতিল করেছিল। এর ফলে দেশে টিকা সংকট তৈরি হয়। গত ১৫ দিনের মধ্যে সাড়ে তিন শ শিশু মারা গেছে। এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়।’
আবদুল্লাহ নিশাত আরও বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় টিকা খাতে যারা অনিয়ম করেছে, তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে বর্তমান সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।’
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়।