ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উত্তরা পশ্চিম থানায় করা আ. জব্বার হত্যাচেষ্টা মামলায় বিকেলে দুই দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয় দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মো. সুমন মিয়া তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শুনানির সময় আগরওয়ালার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত রোববার (২৫ অক্টোবর) আগরওয়ালাকে দ্বিতীয় দফায় দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় এই মামলায়। ২১ অক্টোবর এই মামলায় তাঁকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
এই মামলার বাদী আ. জব্বার। ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ উত্তরা পশ্চিম থানায় করা এই মামলার অভিযোগে বাদী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ছাত্র-জনতা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শুরু করে। বাদী ছাত্রদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে আন্দোলনে অংশ নেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বৈরাচার সরকার পতনের এক দফা দাবিতে উত্তরার বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেন।
৫ আগস্ট বাদী আ. জব্বার উত্তরা পশ্চিম থানার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর বিএনএস সেন্টারের পশ্চিম পাশে রাস্তার ওপর শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। দুপুর ১২টায় একটি বুলেট বাদীর শরীরের (মেরুদণ্ডের নিচে কোমরের ওপরে) প্রবেশ করে। তৎক্ষণাৎ বাদী রাস্তায় অচেতন হয়ে লুটিয়ে পড়েন।
উপস্থিত আন্দোলনকারীরা বাদীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (পিজি হাসপাতাল) নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, পুলিশ কর্মকর্তাসহ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এই মামলা করেন।
১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় বনানী থেকে আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরদিন সোনা চোরাচালান ও অর্থ পাচারের অভিযোগে সিআইডির করা এক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব। এরপর বিভিন্ন হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় জামিন পাওয়ার পর ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।