রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার বিচার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পল্লবী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিক্ষোভের কারণে মিরপুর-১০ গোলচত্বর, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২, মিরপুর-২, সনি স্কয়ার, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, তালতলা ও কালশী এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তিনি রাজধানীবাসীকে ধীরস্থিরভাবে চলাচলের আহ্বান জানিয়ে আগারগাঁও ও ৬০ ফিট সড়কসহ বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
স্থানীয়রা জানান, শিশুহত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এলাকাবাসী। সন্ধ্যার পর থেকেই বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে তাঁরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় হত্যাকারীর দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে নানা স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
গত মঙ্গলবার দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে সেটি খণ্ডবিখণ্ড করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর ফ্ল্যাটের গ্রিল কেটে পালিয়ে যান তিনি। তবে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। পরে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে আটক করে পুলিশ।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশুটিকে কৌশলে তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আসামিদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির স্যান্ডেল দেখতে পান তার মা। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে স্বজনেরা খাটের নিচে মাথাবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমের একটি বালতিতে কাটা মাথা দেখতে পান।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না আক্তার জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। পরে মরদেহ গুম করতে গলা কেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করে খাটের নিচে লাশ রেখে পালিয়ে যান তিনি।
আরও পড়ুন—