দীর্ঘদিন ধরে রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলায় পদ্মার বিস্তীর্ণ চরে বিভিন্ন জাতের টমেটোর আবাদ করছেন চাষিরা। এ বছর আশানুরূপ ফলন পাননি বলে জানিয়েছেন তাঁরা। তবে বাজারে দাম বেশি থাকায় টমেটো বিক্রি করে লাভ থাকবে বলে আশা করছেন চাষিরা।
সরেজমিনে সদর উপজেলার উড়াকান্দা, নয়নসূখ, কাঁচরন্দপুর, রাধাকান্তপুর, গোপালবাড়ী এলাকায় দেখা যায়, পদ্মার বিস্তীর্ণ চর জুড়ে শুধুই টমেটো খেত। বাহুবলী, বিউটি ফুল, বিপুল প্লাসসহ উচ্চ ফলনশীল বিভিন্ন জাতের টমেটোর আবাদ করেছেন চাষিরা। গাছে থোকায় থোকায় ধরে আছে কাচা-পাকা টমেটো। জমি থেকে পাকা টমেটো তুলে কৃষক ও কিষানিরা পাটের বস্তায় ভরে বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের গোপালবাড়ি গ্রামের কৃষক রফিক শেখ জানান, এ বছর তিনি ৩ বিঘা জমিতে টমেটোর চাষ করেছেন। এতে তাঁর খরচ হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এরই মধ্যে দুই লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন তিনি। আরও অন্তত দুই লাখ টাকার বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
অপর কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, বর্তমানে বাজারে টমেটোর চাহিদা রয়েছে। দামও পাওয়া যাচ্ছে কেজি প্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা হারে। তবে সার, কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় খরচ পড়েছে বেশি। কৃষি বিভাগ থেকে চাষে কোনো পরামর্শ বা প্রণোদনা পাইনি।
রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ বছর রাজবাড়ী জেলায় ৫৫০ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগ কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছে। এ বছর টমেটোর দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছে।
আবুল কালাম আজাদ জানান, টমেটো চাষে কোনো প্রণোদনা বা প্রদর্শনী নেই। কোনো কৃষক সহযোগিতা চাইলে তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়।