ঢাকা শহরে জলাবদ্ধতার পেছনে ‘ড্রেন ও খাল ভরাট’সহ পাঁচটি কারণ উল্লেখ করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। আজ রোববার বিকেলে ডিএনসিসি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
রোববার সকাল থেকে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে রাজধানী ঢাকার জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সকাল ৬টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মাত্র ৬ ঘণ্টায় ঢাকায় ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণ উল্লেখ করে ডিএনসিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, নগরায়ণের ফলে পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়া, অনেক জায়গায় ড্রেন ও খাল ভরাট বা সংকুচিত হওয়া, অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলার কারণে পানি চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং দীর্ঘদিনের পুরোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ।’
জলাবদ্ধতায় নাগরিকদের ভোগান্তিতে পড়ছেন জানিয়ে প্রশাসক বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টার অতি ভারী বর্ষণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, গুলশান, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় কিছু কিছু এলাকায় পানি জমে মানুষের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
গত দুই দিন দেশে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিভিন্ন এলাকা ও রাস্তায় জমে থাকা পানি অপসারণ ও ড্রেন পরিষ্কার নিয়ে নগরবাসীর প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিয়মিত খাল ও নালা পরিষ্কার এবং আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তবে আকস্মিক অতি ভারী বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ড্রেন, নালা ও পানি নিষ্কাশনের পথগুলো সচল রাখতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যেসব এলাকায় পানি জমে আছে, সেখানে দ্রুত পানি অপসারণের জন্য যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। ওয়াটার পাম্পগুলো সচল রাখা হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।