অবকাঠামো থাকলেও প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে দুর্দশায় স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা। দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি ছাড়া মিলছে না তেমন চিকিৎসা। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে তেমন কোনো অবদান নেই। মাঠ পর্যায়ের এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আব্দুল হামিদের নেতৃত্বে জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (নিপোর্ট) করা গবেষণার এমন চিত্র উঠে এসেছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে মানুষ কী স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে তা জানতেই এই গবেষণা চালানো হয়।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিরডাপ মিলনায়তনে গবেষণার প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। এতে দেশের ১২৮টি সংস্থা ও ৩ হাজার ৪২০ জনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।
গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৫০ জেলার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় মেডিকেল অফিসার নেই। দুটি জেলাতে থাকলেও চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন তাঁরা। এমনকি ৩০টি জেলা-উপজেলার মধ্যে ৫টি উপজেলায় কোনো ধরনের সেবা প্রদান করা হচ্ছে না। এসব প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবায়নে প্রতি মাসে অন্তত একবার পরিচালনা পর্ষদের সভা হওয়ার কথা থাকলেও তার বাস্তবায়ন নেই। এসব এলাকায় গরিব, খেটে খাওয়া মানুষ ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে (প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও পুষ্টি) কোনো কার্যক্রম নেই।
এ ছাড়া গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, এসব কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বরত কর্মচারীরা তাঁদের দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত নয়। এই সমস্যা উত্তরণে গবেষণাপত্রে কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
সুপারিশে বলা হয়েছে, এসব সংকট মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের উচিত, শহরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানো।