হোম > সারা দেশ > ঢাকা

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা: ‘আমি নির্দোষ, আমার সঙ্গে ছিল ডলার, ওরে ধরেন’—আসামি সোহেল

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

গ্রেপ্তার সোহেল রানা। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী মিরপুরের পল্লবী এলাকায় আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা মামলায় আদালতে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানিতে আদালতে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা। সোহেলের দাবি, ‘ডলার নামের একজনও এই ঘটনায় জড়িত। তাকেও ধরা হোক।’ মামলার আরেক আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারও আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

আজ বুধবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে মামলায় যুক্তিতর্কের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন বিচারক মাসরুর সালেকীন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে আজ সকালে সোহেল ও স্বপ্নাকে কারাগার থেকে এনে রাখা হয় আদালতের হাজতখানায়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে সোহেলকে, আর বেলা ১১টার দিকে স্বপ্নাকে আদালতে তোলা হয়। এরপর বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। আসামি সোহেলের উদ্দেশে বিচারক বলেন, এই মামলায় তাঁর (সোহেল) বিরুদ্ধে ১৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরপর আদালত সোহেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য পড়ে শোনান।

সোহেলের কোনো বক্তব্য আছে কি না, তা জানতে চান আদালত। জবাবে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো আসামি সোহেল রানা বিচারককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমারে মাফ কইরা দ্যান।’

এরপর সোহেল আবারও বলেন, ‘আমি নির্দোষ। আমারে খালাস দ্যান।’

সোহেল বলেন, ‘আমার একটা ছাওয়াল আছে আমাকে মাফ করে দ্যান। আমার সঙ্গে ছিল ডলার। ওকে কেউ দেখে নাই স্যার। ওরে ধরেন স্যার। আমার পাপের শাস্তি আমারে দেন।’

সোহেল আরও বলেন, ‘আরেকটা কথা— আমার বউ নির্দোষ।’

এ সময় সোহেলকে থামিয়ে বিচারক বলেন, ‘আপনারটা আপনি বলেন।’

তখন সোহেল আবারও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

পরে আদালত স্বপ্নার উদ্দেশে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগসহ সাক্ষ্যদের সাক্ষী অনুযায়ী তিনিও একই অপরাধে দোষী। তাঁর কোনো কথা থাকলে তা বলতে বলেন আদালত।

আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আগামীকাল বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের জন্য দিন নির্ধারণের আবেদন করেন। আদালত তা মঞ্জুর করেন।

গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-বি, অ্যাভিনিউ-৭-এর ৩৭ নম্বর বাসার পাঁচতলা ভবনের তিনতলার উত্তর পাশের কক্ষের বেডরুম থেকে আট বছরের শিশু পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীর মস্তকবিহীন মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। কিছুক্ষণ পর রঙের বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়। এ সময় স্বপ্না আক্তার দাঁড়ানো ছিলেন। তিনি জানান, তাঁর স্বামী সোহেল রানা শিশুকে বাথরুমে আটকে ধর্ষণ করার পর মেরে ফেলে। পরে মরদেহ গায়েব করার জন্য ধারালো ছুরি দ্বারা গলা কেটে ফেলেন। কাঁধ থেকে দুই হাত বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পুলিশকে খবর দেন এবং স্বপ্না আক্তারকে আটক করেন। পরে অভিযান চালিয়ে সোহেলকে আটক করে পুলিশ।

২০ মে ভোরে আব্দুল হান্নান পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, যে বাসা থেকে ওই শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, তার বাসার পাশের বাসাই বাদীর বাসা। সকাল সাড়ে ৯টায় ওই শিশু বাসা থেকে বের হলে তাকে পাশের বাসায় নিয়ে আটকে রাখে। তাকে ধর্ষণ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

গত ২০ মে সোহেল রানা আদালতে জবানবন্দি দিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা: ‘আমি কিছু করিনি’—বললেন স্বপ্না

মোহাম্মদপুরে বাসার ফটকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

কেরানীগঞ্জে ৩ লাখ অবৈধ চিংড়ির রেণু জব্দ, ধলেশ্বরীতে অবমুক্ত

তোফায়েল আহমেদের জানাজা শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, গ্রেপ্তার ৬ জন কারাগারে

মেট্রো স্টেশনের নিচ থেকে সরানো হলো অবৈধ দোকানপাট

নরসিংদীতে পুকুরপাড়ে পড়ে ছিল ইজিবাইকচালকের মরদেহ

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা: এক দিনে ১৬ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, কাল আত্মপক্ষ সমর্থন

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: ক্যামেরা ট্রায়ালে বড় বোনের সাক্ষ্য

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: পুলিশ হেফাজতের আসামির কথা বলা ও প্রচারে নিষেধাজ্ঞা

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: রান্নার সময় পাশের বাসা থেকে চিৎকার শুনতে পান মা