ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১০ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূর এই তারিখ ধার্য করেন।
ইরফান সেলিম, ইরফানের দেহরক্ষী এ বি সিদ্দিক দিপু, গাড়িচালক মিজানুর রহমান আদালতে হাজির ছিলেন। আরেক দেহরক্ষী জাহিদুল মোল্লাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আরেক আসামি রিপন কাদির প্রথম থেকেই পলাতক রয়েছেন।
ইরফান সেলিমের আইনজীবী শ্রী প্রাণনাথ আজকের পত্রিকাকে বলেন, আজ সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু কোনো সাক্ষী হাজির না হয় আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেছেন।
এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ইরফান সেলিমসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। গত বছর ১১ ফেব্রুয়ারি পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
২০২০ সালের ২৫ অক্টোবর নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। এ সময় হাজী সেলিমের ছেলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান সেলিমের গাড়ি তাঁকে ধাক্কা মারে। এরপর তিনি সড়কের পাশে মোটরসাইকেল থামিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান ও নিজের পরিচয় দেন। তখন গাড়ি থেকে ইরফানের সঙ্গে থাকা অন্যরা একসঙ্গে তাঁকে মারধর করে মেরে ফেলার হুমকি দেন। তাঁর স্ত্রীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন।
এ ঘটনায় ২৬ অক্টোবর সকালে ইরফান সেলিম, তাঁর দুই দেহরক্ষী জাহিদুল মোল্লা, এ বি সিদ্দিক দিপু, গাড়িচালক মিজানুর রহমান ও রিপন কাদিরসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে আসামি করে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন ওয়াসিফ আহমদ খান।
ওই দিনই দুপুরে র্যাব পুরান ঢাকার চকবাজারে হাজি সেলিমের বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ইরফান সেলিম ও তাঁর দেহরক্ষী জাহিদকে হেফাজতে নেয়। বাসায় অবৈধভাবে মদ ও ওয়াকিটকি রাখার দায়ে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের দুজনকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেন। পরের দিন র্যাব-৩–এর ডিএডি কাইয়ুম ইসলাম চকবাজার থানায় ইরফান সেলিম ও দেহরক্ষী জাহিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের আইনে মামলা দায়ের করেন। পরে চকবাজার থানায় দায়ের করা অস্ত্র ও মাদক মামলা থেকে ইরফান ও জাহিদুলকে অব্যাহতি দেন আদালত।