আজ মঙ্গলবার ফরিদপুরে নির্বাচনী জনসভা করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে অংশ নিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে আসতে শুরু করেছেন নেতা-কর্মীরা। বেলা ৩টায় সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জনসভাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা বেষ্টনী। মাঠে প্রবেশ করার জন্য পাঁচটি গেট তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি গেটে অবস্থান করছে পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবকেরা। এদিকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি তেমন দেখা না গেলেও দুপুর ১২টা থেকে দলে দলে মিছিল নিয়ে আসতে শুরু করেছেন নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়া এ সময় থেকে জনসভার মাঠে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও বাড়তে শুরু করেছে। সবাইকে তল্লাশির পর তবেই মাঠে ঢোকানো হচ্ছে।
এ সময় জনসভায় আগত নেতা-কর্মী ও জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলে অনেক প্রত্যাশার কথা জানা যায়। তাঁরা বলছেন, ফরিদপুর বিভাগ বাস্তবায়ন ও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আশা করছেন।
জেলা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি কাজী সোবহান বলেন, ‘অসাধারণ মানুষ যখন সাধারণের কাছে আসে, তখন আনন্দটা একটু বেড়ে যায়। আমরা ফরিদপুরের চারটি আসন থেকে তাঁকে নৌকা উপহার দিতে চাই। আমাদের কিছু প্রত্যাশা আছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে, ফরিদপুরকে আমরা বিভাগ হিসেবে দেখতে চাই। এ ছাড়া এই জেলায় একটি সম্মানজনক বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের প্রত্যাশা।’
মাঠে প্রবেশ করতে দেখা যায় ফরিদপুর-৪ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমানকে। এ সময় তিনি বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারি নিশ্চয়ই নৌকার বিজয় হবে এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আবারও প্রধানমন্ত্রী হবেন। আজ তিনি ফরিদপুরের আসছেন, ফরিদপুরবাসী আনন্দের জোয়ারে ভাসছে। তাঁকে একনজর দেখার জন্য মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে আসছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচন উপলক্ষে নৌকা মার্কায় ভোট চাইবেন। আমরা আশা করি, তাঁর কথার ওপর ভিত্তি করে ফরিদপুরের মানুষ নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। রাস্তার দুপাশে পুলিশের অবস্থান রয়েছে। বিভিন্ন বিল্ডিংয়ের ছাদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও চোখে পড়ে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছি। পাশাপাশি পর্যাপ্তসংখ্যক ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, এসএসএফ, ডিজিএফআই ও আনসার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।