ছোট মেয়ের আবদারে কলেজপড়ুয়া ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় রাতে খেতে গিয়েছিলেন গৃহবধূ ববিতা আক্তার। খাবার খেয়ে বাসায় ফেরার পথে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে আহত হন তিনি। এরপর থেকে টানা ছয় দিন চিকিৎসাধীন থেকেও শেষ রক্ষা হয়নি। গতকাল সোমবার রাতে হাসপাতালে মারা যান ববিতা আক্তার।
ঘটনাটি ঢাকার আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায়। ববিতা আক্তার (৩৭) আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার মণ্ডলপাড়া মহল্লার নাদিম মণ্ডলের স্ত্রী।
এসব বিষয় জানিয়েছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার বলছে, গত ১৫ এপ্রিল (সোমবার) রাত ৭টার দিকে মেয়ে নুসরাত আক্তারের (৪) আবদারে রাতের খাবার খাওয়ার জন্য ছেলে সাজু মণ্ডলকে (১৯) সঙ্গে নিয়ে আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় যান ববিতা। সেখান থেকে রাত ৯টার দিকে ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে রিকশায় বাসায় ফেরার পথে পলাশবাড়ী এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন তিনি।
দুই ছিনতাইকারী মোটরসাইকেলযোগে এসে তাঁর কাঁধে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ছিনতাইকারীদের হ্যাঁচকা টানে ববিতা আক্তার রিকশা থেকে সড়কের ওপর পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাঁকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সোমবার রাত ১২টার দিকে তিনি মারা যান।
আশুলিয়ার ওসি এ এফ এম সায়েদ বলেন, ঘটনার পর ববিতা আক্তারের দেবর কাদের হৃদয় বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পর ওসমান (২২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তাঁর জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে।