ভোট প্রয়োগের জন্য বাড়ি ফেরার পথে গাজীপুরের শিল্প অধ্যুষিত শ্রীপুর উপজেলায় গণপরিবহনের সংকটে পড়েছেন হাজারো শ্রমিক। বাস না পেয়ে ট্রাক ও পিকআপে গাদাগাদি করে ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যের পথে রওনা হয়েছেন তাঁরা। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা, এমসি বাজার, নয়নপুর ও জৈনা বাজার বাসস্ট্যান্ড ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন গার্মেন্টস ও শিল্পকারখানায় কর্মরত শ্রমিকেরা একযোগে ছুটি পাওয়ায় সড়কে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে।
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার কর্নময়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার ও গার্মেন্টসকর্মী মজিবুল ইসলাম বলেন, ‘চার দিনের ছুটি পেয়ে ভোট দিতে বাড়ি যাচ্ছি। এক ঘণ্টার বেশি সময় মাওনা বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করেও বাস না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ট্রাকে উঠতে হয়েছে। এতে স্বাভাবিক ভাড়ার কয়েক গুণ বেশি দিতে হচ্ছে।’
নওগাঁ-৩ আসনের বদলগাছীর বিশালবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার দেলোয়ার হোসেন জানান, শ্রীপুরের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন তিনি। ভোট দিতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন। তবে যাতায়াতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
নেত্রকোনা-২ আসনের ভোটার শামীমা জাহান বলেন, ‘লম্বা ছুটি পেয়ে ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ফিরছি। বাস না পেয়ে ময়মনসিংহ পর্যন্ত জনপ্রতি ৩০০ টাকা ভাড়ায় ট্রাকে যাচ্ছি। পরে বিকল্প ব্যবস্থায় গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করব।’
শেরপুরের ভোটার মনির হোসেন বলেন, ‘প্রথমবার ভোট দিতে বাড়ি যাচ্ছি। এলাকার উন্নয়নের জন্য যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আশা।’
শ্রমিক সিমি আক্তার বলেন, ঝুঁকি নিয়েই রওনা হতে হচ্ছে। ভাড়া অনেক বেশি। ভোট দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য। তবে প্রশাসনের তেমন নজরদারি চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, একযোগে কারখানা ছুটি হওয়ায় মহাসড়কে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে প্রতিটি বাসস্ট্যান্ডে পুলিশের নজরদারি রয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সজীব আহমেদ বলেন, উপজেলায় প্রায় ৪৫০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। সব কারখানা একযোগে ছুটি হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সড়ক ও মহাসড়কে কঠোর নজরদারি করছে।