গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী): গোয়ালন্দের অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ ও নাট্যকার বিশ্বনাথ বিশ্বাস (৭২) মারা গেছেন। আজ বুধবার সকাল সাড়ে নয়টায় গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষুদিরাম সরকার পাড়ার নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি কিডনির অসুস্থতাসহ নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। বিকেল ৩টায় গোয়ালন্দ মহাশ্মশানে তাঁর মরদেহ সৎকার করা হয়।
বিশ্বনাথ বিশ্বাস প্রায় ৫০ বছর নাটক নিয়ে কাজ করেছেন। যাত্রাপালা এবং মঞ্চ নাটকে অভিনয় করে হাজারো দর্শকের মন জয় করেন। জীবনে ৬৩টি মঞ্চ নাটক, ২৬টি বেতার নাটক এবং শিল্পী হিসেবে শতাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানুষের দুঃখ দুর্দশা নিয়ে তিনি বেশ কিছু নাটক লিখেছেন। মঠ মন্দির শ্রীঅঙ্গনে মধুর কণ্ঠে শ্রীমদ্ভগবত গীতা পাঠেও বিশ্বনাথ বিশ্বাসের জনপ্রিয়তা ছিল।
বিশ্বনাথ বিশ্বাস ছিলেন একাধারে নাট্য সংগঠক, নাট্য নির্মাতা এবং অভিনেতা। তিনি ছিলেন গোয়ালন্দ থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা, শ্রীকৃষ্ণ সেবা সংঘের উপদেষ্টা, গোয়ালন্দ পৌর আওয়ামী লীগের সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য এবং দেওয়ান পাড়া রহমত উল্লাহ কলেজিয়েট স্কুলের দ্বিতীয় শাখার শিক্ষক। তাঁর নাটকে সমাজের বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তুলতেন। গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় তার লেখা নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। গোয়ালন্দের বেশির ভাগ নাট্য অভিনেতাই তাঁর হাত ধরে মঞ্চে উঠেছেন।
বিশ্বনাথ বিশ্বাসের স্ত্রী মমতা রানী বিশ্বাস জানান, 'তিনি গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমরা কেউ ভাবিনি তিনি এভাবে আমাদের রেখে চলে যাবেন।'
বিশ্বনাথ বিশ্বাসের একমাত্র ছেলে বিপ্লব বিশ্বাস একটা বেসরকারি এনজিওতে চাকরি করেন। বাবার চিকিৎসার জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন।