কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় স্বামীর সঙ্গে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে এক গৃহবধূকে সড়ক থেকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে স্বামীর কল পেয়ে পুলিশ এসে ওই নারীকে উদ্ধার ও চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তবে অপর একজন পালিয়ে যায়।
গতকাল রোববার (৩ মে) গভীর রাতে উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে উদ্ধার নারী ধর্ষণের অভিযোগ এনে চান্দিনা থানায় মামলা করেছেন। তাঁকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মাদারপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আশিক (৩১), কামারখোলা গ্রামের মেহেদী হাসান তারেক (২৪), মো. আরিফ (৩৪) ও মো. ইসমাইল (৩৭)। আজ সোমবার (৪ মে) পুলিশ তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
লিখিত অভিযোগের বরাতে থানা-পুলিশ জানিয়েছে, বরুড়া উপজেলার একটি গ্রামের ওই দম্পতি গতকাল রাত ৯টার দিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে চান্দিনার একটি গ্রামে আত্মীয়ের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে রাত ১০টার দিকে কামারখোলা এলাকায় পৌঁছালে অটোরিকশার চালক জানান, ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে গেছে। এরপর তাঁদের নামিয়ে দেন। নিরুপায় হয়ে ওই দম্পতি হেঁটে গন্তব্যে রওনা হন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েক যুবক তাঁদের পথ রোধ করেন এবং বাগ্বিতণ্ডা শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা আরও কয়েকজনকে ডেকে আনেন। পরে ওই নারীর স্বামীকে দূরে সরিয়ে দিয়ে তাঁকে পাশের একটি খেতে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।
বাদীর স্বামী জানান, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯-এ কল দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনকে আটক করে। পরে মামলা হলে আটক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘আমাকে তারা জোরপূর্বক ভুট্টাখেতে নিয়ে ধর্ষণ শুরু করে। আমি তাদের পায়ে ধরেছি, চিৎকার করে কান্না করেছি, তবু রেহাই পেলাম না।’
চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে পাঁচজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুজন সরাসরি ধর্ষণে জড়িত ছিলেন। অন্যরা সহযোগী ছিলেন। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই একজন পালিয়ে যান। অন্য চারজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
ওসি আরও বলেন, ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন। তাঁকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কুমেক হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। আটক যুবকদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।