দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। কুমিল্লার তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে আজ দুপুর আনুমানিক দুইটায় এ সংঘর্ষ হয়।
আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আলী আশরাফ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়েরের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। আলী আশরাফ সমর্থকেরা স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল খায়েরের গ্রাম গোপালপুরে পোস্টার লাগাতে গেলে এ সংঘর্ষের শুরু হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের নেতা কর্মীদের মধ্যে কয়েকজন গুলিবিদ্ধসহ মোট ১২ জন আহত হয়। ভাঙচুর করা হয়ে কয়েকটি ঘর। খবর পেয়ে তিতাস থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটি দেশীয় পাইপ গান উদ্ধার করে।
আহতরা হলেন, অলিউল্লাহ (২৮), স্বপন মিয়া (২৬), রনি মিয়া (২৫), সোহাগ হোসেন (২৩), আরমান (১৬), মনু মিয়া (৩৫), আলম (২৭), মাসুদ (২২), ইয়ার খান (৪৫) ও রহিম (২০)। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ৯ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আব্দুস সাত্তার, নসু মিয়া ও মিন্নত আকীর বসত ঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।
তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মৃত্তিকা অথৈ বলেন, মারামারি করে আহত ১২ জন চিকিৎসার জন্য এসেছিল। এদের মধ্যে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁদের ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল খায়ের বলেন, সোমবার দুপুরে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আলী আশরাফের লোকজন কয়েকটি মোটরসাইকেল ও সিএনজি চালিত অটোরিকশায় আমার গ্রাম গোপালপুরে এসে আমার নির্বাচনী অফিস এবং কয়েকটি বসত ঘর ভাঙচুর করে। এ সময় আমার কয়েকজন কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়।
তিতাস থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুধীন চন্দ্র দাস বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। গোপালপুর গ্রামের চেয়ারম্যান বাড়ির পুকুর পাড় থেকে দুটি দেশীয় পাইপগান উদ্ধার করি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।