কুমিল্লার পদুয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহতের ঘটনায় ওই দিন উল্টো পথে আসা হানিফ পরিবহনের বাসটি জব্দ করেছে পুলিশ। আজ রোববার দেবীদ্বার উপজেলার খাদঘর এলাকায় মানামা হোটেলের সামনে থেকে বাসটি জব্দ করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বাসটি শনাক্ত করা হয়। ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, ঢাকা মেট্রো-ব-১২-২১৯৭ নম্বরের হানিফ পরিবহনের বাসটি মহাসড়কে উল্টো পথে প্রবেশ করায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিমেন্টবোঝাই কাভার্ড ভ্যানটি প্রাইভেট কারের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের চারজনের প্রাণহানি ঘটে।
তিনি আরও জানান, বাসটি জব্দ করা গেলেও চালক ও হেলপারকে পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর তাঁরা বাসটি ফেলে রেখে পালিয়ে যান। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তথ্যমতে, গত শুক্রবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় সিমেন্টবোঝাই একটি লরির নিচে চাপা পড়ে প্রাইভেট কারে ভেতরে একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। একই সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশার আরও দুই যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন বরুড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের মোহাম্মদ ওমর আলী (৮০), তাঁর স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৬৫), বড় ছেলে ব্যাংক এশিয়ার কর্মকর্তা আবুল হাশেম (৫০) এবং ছোট ছেলে আবুল কাশেম (৪৫)। প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন আবুল হাশেম।
ঘটনার পর নিহত ওমর আলীর ভাই আবুল কালাম বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় কাভার্ড ভ্যান ও হানিফ পরিবহনের বাসের অজ্ঞাতনামা চালকদের আসামি করা হয়েছে।
এদিকে পরিবারের চার সদস্যের একসঙ্গে মৃত্যুতে বরুড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।