কুমিল্লার তিতাস উপজেলার শম্ভুপুর গ্রামে ফসলি জমির পাশে বাগানবাড়ি ভাড়া নিয়ে মৌ বাক্স স্থাপন করে মধুর চাষ করছেন টাঙ্গাইলের বাসিন্দা হাফিজুর (৪২)। উপজেলার একই গ্রামের ইসলাম মিয়ার পনেরো শতকের একটি আমবাগান তিন মাসের জন্য ৪ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে ৩০০ মৌ বাক্স স্থাপন করে মধুর চাষ করছেন হাফিজুর।
সরিষাসহ বিভিন্ন গাছের ফুল থেকে শীতের ছয় মাস মধু আহরণ করে মৌমাছি। বর্ষার তিন মাস কোনো গাছে ফুল না থাকায় মৌমাছি মধু আহরণ করতে পারে না বলে সেগুলো বাঁচিয়ে রাখতে টাঙ্গাইল থেকে ২০ হাজার টাকায় দুটি ট্রাক ভাড়া করে ৩০০ বাক্স তিতাসের শম্ভুপুর গ্রামে নিয়ে আসেন মৌচাষি হাফিজুর।
হাফিজুর বলেন, `বর্ষার তিন মাস ফুলের সংখ্যা কম থাকায় আমি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মাইষমারা গ্রাম থেকে ২০ হাজার টাকায় দুটি ট্রাক ভাড়া করে ৩০০ বাক্স নিয়ে এখানে এসেছি মৌমাছিগুলো বাঁচিয়ে রাখার জন্য। তিন মাসের জন্য বাগানটি ভাড়া নিয়েছি। এরই মধ্যে দুই মাস শেষ হয়েছে। আগামী মাসের ৫ তারিখে চলে যাব।'
হাফিজুর জানান, এখন ফুল না থাকায় মৌমাছির খাবার হিসেবে প্রতিদিন এক বস্তা চিনি কিনতে হয়। অগ্রহায়ণ মাস থেকে বিভিন্ন গাছে ফুল ফুটতে শুরু করলে তখন প্রতিটি বাক্স থেকে সপ্তাহে এক কেজি করে মধু সংগ্রহ করতে পারব।
২০১১ সালে হাফিজুর প্রথম ১০টি বাক্স নিয়ে মৌচাষ শুরু করেন। বর্তমানে তাঁর ৩০০ বাক্স রয়েছে। এখন বছরে এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করেন হাফিজুর।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, `তিতাস উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে মৌচাষি নেই। তবে আমাদের একটা তেল-ডাল প্রকল্প আছে। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ওই প্রকল্পের আওতায় যাঁরা সরিষা ও তিল চাষ করেন, তাঁদের একটি মৌ বাক্স দেওয়া হয়।