গ্রামের ভেতর দিয়ে পাকা সড়ক। বেশ ছিমছাম। কিন্তু কিছু দূর যেতেই রাস্তাটি অনিচ্ছা সত্ত্বেও সরু হয়ে গেছে। সরু হতে সে বাধ্য হয়েছে। কারণ, রাস্তার পাশে থাকা জলাশয়ে থাকা মাছ রাস্তাটির একটি পাশ খেয়ে ফেলেছে। শুনতে যেমনই লাগুক ঘটনা এমনই। কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলায় কড়িকান্দি থেকে রাজাপুর গ্রামের সংযোগ সড়কের ভিত মাছের আক্রমণে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এর একপাশ রীতিমতো ধসে গেছে। ফলে এই সড়কে যানবাহনগুলোকে বেশ কসরত করে চলতে হয় এখন।
সড়কের পাশে মৎস্য প্রকল্প করার ক্ষেত্রে আলাদা বেড়িবাঁধ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও প্রকল্পের মালিকেরা এসব নিয়মের কিছুই মানেনি। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মৎস্য প্রকল্পের মালিকেরা সরকারি রাস্তাকেই বেড়িবাঁধ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ব্যবস্থা নিচ্ছে না উপজেলা প্রশাসন।
মৎস্য প্রকল্পটির মালিক মজিব মিয়া নামের এক ব্যক্তি। তিনি গ্রামের পশ্চিম দিকের সড়কের পাশের পুকুরে গংরা মাছ চাষ করেন। এই মাছ সড়কের মাটি খেয়ে ফেলায় সড়কটি ধসে পড়েছে। এ অবস্থায় সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে মজিব মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে আগে। কিন্তু তাতেও তিনি সাড়া দেননি বলে জানা গেছে।
কড়িকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন ভূঁইয়া বলেন, ‘রাস্তার পাশের পুকুরে মাছ চাষ করায় মাছ মাটি খেয়ে ফেলেছে। এতে নতুন রাস্তাটি ধসে পড়েছে। আমি মাছ চাষিদের খবর দিয়েছিলাম; কিন্তু তারা আসেনি।’
উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মাসিক সমন্বয় সভায় একাধিকবার এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্তও হয়েছে। সড়কের পাশে যারা মাছ চাষ করে, তারা যেন সড়কের নিরাপত্তা বজায় রেখে মাছ চাষ করেন, সে বিষয়ে মৎস্য প্রকল্পের মালিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম মোর্শেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, পুকুরে মাছ চাষের কারণে যদি রাস্তার ক্ষতি হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।