কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শামছুল ইসলামকে হুমকি ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজের একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এতে নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর ভূঁইয়াকে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানকে লক্ষ্য করে তীব্র ভাষায় বলতে শোনা যায়, ‘আপনারে কে এখানে বসাইছে, আমি তার কইলজা খুলিয়ালামু। আপনার কইলজাও খুলমু।’
আজ মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে প্রায় ১ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের এই কল রেকর্ড ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। দলীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, ঘটনাটি প্রায় তিন মাস আগের।
২০০১ সালে কুমিল্লা-১১ (নাঙ্গলকোট) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন আব্দুল গফুর ভূঁইয়া। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ও বর্তমান লালমাই উপজেলা মিলে গঠিত হয় কুমিল্লা-১০ আসন। বর্তমানে ভোলাইন উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির সভাপতির পদ নিয়ে বিরোধের জেরে ওই কল হয়। চলতি বছরের ১৮ মে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদারের বড় ভাই মীর আবু সালেহ শামসুদ্দীনকে সভাপতি হিসেবে সুপারিশ করে জেলা প্রশাসকের দপ্তর। শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান সেই সুপারিশ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের কাছে পাঠান। এরপরই আব্দুল গফুর ভূঁইয়া ফোনে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন এবং হুমকি দেন বলে অভিযোগ। ঘটনার পর চেয়ারম্যানের অনুরোধে মীর আবু সালেহ শামসুদ্দীন পদ থেকে সরে দাঁড়ান। পরে আব্দুল গফুর ভূঁইয়া সভাপতি হন।
ফাঁস হওয়া অডিওতে আব্দুল গফুর ভূঁইয়াকে উত্তেজিত কণ্ঠে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের উদ্দেশে নানা হুমকি ও গালিগালাজ করতে শোনা যায়। কথোপকথনে তিনি দাবি করেন, একজন সাবেক সংসদ সদস্যকে অপমান করা হয়েছে এবং এর প্রতিশোধ নেবেন। তিনি আরও বলেন, ‘আপনি এটা সুন্দরভাবে করেন, না হলে আপনার ক্ষতি হবে...আপনাকে আমি দেখে নেব।’
যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আজ রাত থেকে আব্দুল গফুর ভূঁইয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এর আগে তিনি স্থানীয় কয়েকজনকে জানিয়েছেন, কল রেকর্ডটি তাঁর নয়, বরং এডিট করে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শামছুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি প্রায় তিন মাস আগের। আজ কীভাবে রেকর্ডটি ফেসবুকে ছড়িয়েছে, বলতে পারব না। এ নিয়ে আমি আর কোনো মন্তব্য করব না।’
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকারিয়া তাহের প্রবল বলেন, ‘আমি কিছুটা কল রেকর্ড শুনেছি। এটি দলীয় কোনো বিষয় নয়, সম্পূর্ণ গফুর ভূঁইয়ার ব্যক্তিগত বিষয়।’