কক্সবাজারের চকরিয়ায় রুমা আক্তার (৩০) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে ও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচারের জন্য তাঁর মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝেরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে গতকাল শুক্রবার সকালে পুলিশ ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়দের সহায়তায় রুমার স্বামী মোহাম্মদ মানিককে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ। নিহত রুমা একই এলাকার বাহাদুর আলমের মেয়ে।
রুমার আট বছর বয়সী ছেলে মো. লাবিব জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তার বাবা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও বালিশ চাপা দিয়ে তার মাকে হত্যা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই মানিক রুমাকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। বাড়ি নির্মাণের কথা বলে একটি এনজিও থেকে নেওয়া ৬০ হাজার টাকাও মানিক হাতিয়ে নেন। এ নিয়ে তাঁদের সংসারে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। এর মধ্যে রুমার এক খালাতো বোনকেও বিয়ে করেন মানিক।
এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। তাঁর শরীরে বাইরে থেকে তেমন কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। স্থানীয়রা মানিককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।