খাবারের প্যাকেট নিয়ে অসহায় মানুষদের খোঁজে পথে পথে ঘুরছেন সীতাকুণ্ডের মানবিক যুবক তাহের ও শিপন। করোনার এই সংকটময় মুহূর্তে পথে ঘুরে বেড়ানো মানসিক ভারসাম্যহীন ও নিরন্ন মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে পারলেই তৃপ্তির হাসি ফোটে তাঁদের মুখে।
উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের বাসিন্দা তাহের ও শিপন দুজনই পেশায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। প্রতিদিন আয়ের একটি অংশ খরচ করেন অসহায় ও মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের পেছনে। প্রতিদিন অন্তত ৩০–৪০ জন ভারসাম্যহীন মানুষের মুখে খাবার তুলে দেন তাঁরা। এ কারণে তাঁরা স্থানীয়দের কাছে ‘পাগলের বন্ধু’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
স্থানীয় যুবকদের একত্রিত করে বন্ধু শিপনের সহযোগিতায় গরিবের বন্ধু ফাউন্ডেশন নামে একটি সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলেন তাহের। তাঁদের এই মানবিক কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেন তাঁর স্ত্রী রোজিনা আক্তার।
গত রোববার দুপুরে শিপনের খাবার বিতরণ দেখে এই প্রতিবেদক ছুটে যান তাঁর পেছনে পেছনে। বাড়বকুণ্ড বাজার থেকে একটি অটোরিকশা নিয়ে তাহের চলতে শুরু করেন মহাসড়ক ধরে। বাড়বকুণ্ডের এক কিলোমিটার দূরে শুকলালহাট বাজারে আসতেই সড়কদ্বীপের ওপর বসে থাকা মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী চিৎকার করে ডাক দেন। অটোরিকশা থামাতেই ওই নারী ছুটে আসেন শিপনের সামনে। এ সময় তাঁকে একটি পানির বোতল ও খাবারের প্যাকেট দেন শিপন।
শিপন বলেন, ‘আজ (রোববার) তাহের ভাই ব্যস্ত থাকায় আমাকে একা বের হতে হয়েছে। প্রতিদিন মোটরসাইকেল নিয়ে খাবার বিতরণ করি। আজ অটোরিকশা ভাড়া করে খাবার বিতরণ করেছি।’
এ বিষয়ে তাহের বলেন, ‘গত বছরের মার্চে করোনার প্রভাব শুরুর পর প্রথম লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ ছিল। লকডাউনের দ্বিতীয় দিন সড়কে যেতেই এক মানসিক ভারসাম্যহীন পুরুষ পথ আগলে খাবার চান। সে সময় বিষয়টি আমাকে খুব কষ্ট দেয়।’