চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও এলাকায় ১০ বছর আগে সাত বছরের এক শিশুকে হত্যার ঘটনায় সুজন দাশ (৩৫) নামের এক আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজুল ইসলামের আদালত আসামির উপস্থিতিতে এই রায় দেন। পরে আদালত সাজা পরোয়ানা মূলে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী সেলিম উল্লাহ চৌধুরী জানান, সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত সুজন দাশকে দণ্ড দিয়েছেন।
সেলিম উল্লাহ চৌধুরী আরও বলেন, মামলাটি শুরুতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় (হত্যা) বিচারাধীন থাকলেও আদালত পরে ঘটনাটিকে অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে ৩০৪ ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত টিটন দে তার মা সুমি দের সঙ্গে চান্দগাঁও এলাকার সিঅ্যান্ডবি-বিএফআইডিসি সড়কের একটি বাসায় থাকত। সুমি দে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। একই বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন আত্মীয় সুজন দাশ ও তাঁর পরিবার।
২০১৫ সালের ১১ জুলাই সুমি দে কাজে গেলে টিটনকে বাসায় নিয়ে যান সুজনের স্ত্রী। পরদিন ১২ জুলাই দুপুরে শিশুটিকে গোসল করানো নিয়ে সুজন দাশের সঙ্গে সুমির বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সুজন দাশ শিশুটিকে মারধর করলে টিটন গুরুতর আহত হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় নিহত শিশুর মা সুমি দে চান্দগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিলের পর আদালতে বিচার কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণা করা হয়।