চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে জামায়াতের ১০ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার মামলাটি করেন ফটিকছড়ি পৌরসভার উত্তর ধুরুং এলাকার মো. ইমাম হোসেন। আজ বৃহস্পতিবার তিনি নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। ইমাম হোসেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিবির নেতা ও পৌরসভা পেশাজীবী পরিষদের সদস্য।
মামলার আসামিরা হলেন উপজেলা জামায়াতের আমির নাজিম উদ্দীন ইমু, সাবেক আমির নাজিম উদ্দিন শিকদার, সেক্রেটারি ইউছুপ বিন সিরাজ, উপজেলা শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি আবু জাফর, পৌরসভা শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল, সেক্রেটারি গিয়াস উদ্দিন রুবেল, যুব ও ক্রীড়া বিভাগের নেতা রেজাউল করিম, জামায়াত নেতা কাজী মোহাম্মদ লোকমান, রায়হান ও হেলাল উদ্দিন। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ফটিকছড়ি আসনের এমপি সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া এবং জামায়াত প্রার্থীর করা একটি মামলার সমালোচনা করায় গত সোমবার উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে বাদী ইমাম হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তাঁকে জোরপূর্বক উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে মারধর ও হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আজ সন্ধ্যায় ফটিকছড়ির বিবিরহাটে একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইমাম হোসেন বলেন, ‘উপজেলা জামায়াতের আমির নাজিম উদ্দীন ইমুর নেতৃত্বে আমাকে মারধর ও ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করা হয়। পরে চোখ বেঁধে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে অপহরণ ও হত্যার চেষ্টা করা হয়।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নাজিম উদ্দীন ইমু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলের নেতা কর্মীদের নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করে আসছিলেন ইমাম হোসেন। এ বিষয়ে উভয় পক্ষকে দলীয় কার্যালয়ে ডেকে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হয়েছে। কাউকে অপহরণ, আটকে রাখা বা মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, এ ঘটনায় থানায় ১০ জনের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।