চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের চালক-মালিকদের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের হাতাহাতি হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নৈরাজ্য নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে এনসিপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের এই হাতাহাতি হয়। ঘটনার সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
আজ রোববার (৭ জুন) সকালে চমেক হাসপাতালের পূর্ব গেট এলাকায় এই হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এনসিপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের চালক-মালিকদের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি হয়। পরে চালক-মালিকেরা এনসিপি নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দেন। এতে আতঙ্কিত হন চমেক হাসপাতালে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা দুই পক্ষকে শান্ত করে সরিয়ে দেন। ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার বিষয়ে বিকেলে চমেক হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব আরিফ মঈনুউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, চমেক হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে রোগী ও রোগীদের আত্মীয়স্বজন অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি।
সিন্ডিকেটের সদস্যরা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের জিম্মি করে অ্যাম্বুলেন্সের তিন-চার গুণ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে আসছেন। এখানে আপনি নিজের ইচ্ছেমতো ও সাধ্যমতো একটা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে কখনো বের হতে পারবেন না। বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্সও এখান থেকে রোগী বা লাশ ভাড়া নিয়ে বের হতে পারে না। এখানে একটি সিন্ডিকেট আছে। সমিতি আছে। তাদের কথা ছাড়া এখানে কেউ অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে পারে না।
আরিফ মঈনুউদ্দিন বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অ্যাম্বুলেন্সের যে ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণ করা আছে, সেই ভাড়ার দুই থেকে তিন গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে রোগী ও তাঁদের আত্মীস্বজনদের অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিতে হয়।
এনসিপি নেতা আরও বলেন, ‘চমেক হাসপাতালের পরিচালক যিনি আছেন, উনিও নাকি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট ভাঙতে পারবেন না। উনি নাকি এই সিন্ডিকেটের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন। তাহলে এই সিন্ডিকেট ভাঙবে কারা।
‘এখানকার যিনি এমপি আছেন, উনি এখানকার অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট ভাঙতে পারছেন না। ডিসিকে জানালে ডিসিও কিছু করতে পারছেন না। এরা কি আইনের ঊর্ধ্বে? তাহলে আমরা কি ধরে নিব, উনারাও এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে আছেন।
‘আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, আমরা এই বিষয়ে চসিক মেয়রের সঙ্গে কথা বলব, এ ছাড়া আরও যা যা করার, তা-ই করব। এরপরও যদি এই সিন্ডিকেট না ভাঙে, তাহলে আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এখানে ব্লকেডসহ নানা কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে।’
আরিফ বলেন, এখানে কোনো রোগী বা রোগীর আত্মীয়স্বজনদের জিম্মি করে, লাশ জিম্মি করে, রোগীদের পকেট কেটে কোনো সিন্ডিকেট করে টাকা আত্মসাৎ করা যাবে না।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতা টিপু সুলতান তাঁদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের নৈরাজ্যের বিষয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আজ সকালে এক রোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের যে সমিতি আছে, তাদের সঙ্গে কথা বলতে যাই। এ সময় অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা আমাদের ওপর হাত তুলেছে এবং দুপুরেও তারা আমাদের দুজন কর্মীর ওপর হামলা করেছে।’
জানতে চাইলে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম আজ সন্ধ্যায় আজকের পত্রিকাকে বলেন, এই বিষয় নিয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়ার বিষয়ে এনসিপির নেতা-কর্মীদের আগামীকাল সোমবার মেয়র ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি বৈঠক হওয়া কথা রয়েছে। সেই বৈঠকে হয়তো একটা সিদ্ধান্ত আসতে পারে।