দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ। বৃষ্টি হওয়ায় নদীতে মা মাছের ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এই পরিবেশ বজায় থাকলে সামনের পূর্ণিমার জোতে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ৯টার পর থেকে হালদা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মা মাছের ডিম দেখা যায়। তবে এগুলো নমুনা ডিম বলে জানান রাউজান উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন ফাহিম।
ডিম সংগ্রহকারীরা জানান, হালদার রাউজান ও হাটহাজারীর বিভিন্ন পয়েন্টে মা মাছ ডিম ছাড়তে শুরু করেছে। সকাল ৯টার পর থেকে অল্প ডিম পেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিমের পরিমাণ বাড়তে থাকে। রাউজানে আজিমেরঘাট, কাগতিয়া, গড়দুয়ারা, হাটহাজারীর রামদাশ মুন্সির হাট, মাছুয়াঘোনা, নয়াহাট এলাকার কিছু অংশে নমুনা ডিম ছাড়ে মা মাছ।
মৎস্য কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন ফাহিম বলেন, বৃষ্টি হওয়ায় নদীতে মা মাছের ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিবেশ বজায় থাকলে সামনের পূর্ণিমার জোতে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়তে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাউজান ও হাটহাজারীর বিভিন্ন পয়েন্টে ডিঙি নৌকা ও বাঁশের ভেলা নিয়ে ডিম আহরণ করছেন পোনা সংগ্রহকারীরা। একটি নৌকায় দু-তিনজন নদীতে জাল ফেলে ডিম সংগ্রহ করছেন। অনেকে আধা বালতি, কেউ কেউ এক বা দুই বালতি, আবার অনেকে পাঁচ-ছয় বালতি ডিম পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার হালদা নদীর বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ডিম আহরণকারীদের নমুনা ডিম সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। প্রতি নৌকায় ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ডিম পেয়েছেন বলে জানান ডিম সংগ্রহকারীরা। এই নমুনা ডিম মা মাছের ডিম ছাড়ার প্রাথমিক আলামত বলেও জানান ডিম সংগ্রহকারীরা।
ডিম সংগ্রহকারী কামাল সওদাগর, মো. মুন্না ও রোশাঙ্গীর আলম জানান, ভারী ও হালকা বৃষ্টির কারণে নদীতে জোয়ার আসায় মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে পরিবেশ অনুকূলে থাকলে পুরোদমে মা মাছ ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
হালদা গবেষক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, হালদা নদীতে কার্পজাতীয় মা মাছের ডিম ছাড়ার পূর্ণিমার জো শুরু হয় ২৯ এপ্রিল, যা চলবে ৩ মে পর্যন্ত। এই জোতে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় পাহাড়ি ঢল হালদায় নেমে ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। যার ফলে বুধবার রাতে কয়েকটি স্থানে দু-একটি ডিম পাওয়া যায়। তবে এখনো পুরোদমে ডিম ছাড়েনি মা মাছ। যেহেতু পূর্ণিমার জো চলছে, রাতে বৃষ্টি হলে পুরোদমে ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে পূর্ণিমার তিথিও শুরু হয়েছে। ইংরেজি এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত হালদা নদীতে মা মাছের ডিম ছাড়ার উপযুক্ত মৌসুম। মৌসুমের অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে বজ্রসহ বৃষ্টি হলে নদীতে ঢলের প্রকোপ বৃদ্ধি পায় আর এতে মা মাছ ডিম ছাড়ে। কয়েক দিন ধরে দিনের বেলায় ও রাতে হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাউজান এবং পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি হয়েছে। তা ছাড়া গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ প্রবল বর্ষণ হওয়ায় হালদা নদীতে ঢলের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে।