কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাড়ির দুই শতক জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে আহত কুলসুমা বেগম (৫৫) মারা গেছেন। আজ রোববার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যান তিনি।
মৃত কুলসুমা বেগম পৌর এলাকার শ্রীপুর গ্রামের মজুমদারবাড়ির মরহুম আবদুল খালেকের স্ত্রী।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কুলসুমা বেগমের সঙ্গে ভাশুর ধন মিয়া ও দেবর আরস মিয়ার বাড়ির জায়গাসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। গতকাল শনিবার সকাল ৭টার দিকে ধন মিয়া, আরস মিয়া, তাঁর ছেলে শাহিন ও সাইফুল মাটিতে ফেলে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারেন কুলসুমা ও তাঁর মেয়ে নাজমা আক্তারকে। এ সময় তাঁদের ডাকচিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে। পরে আহতাবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মেয়ে নাজমাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে বাড়িতে যান কুলসুমা বেগম। পরে আজ সকাল ১০টার দিকে আহত মেয়েকে হাসপাতালে দেখতে যান কুলসুমা বেগম। হঠাৎ করে সেখানে পড়ে যান তিনি। পরে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আবুল হাশেম তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে প্রতিবেশী আজাদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ধন মিয়া ও আরস মিয়া কুলসুমার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। বাড়ির সামান্য জায়গার লোভ সামলাতে না পেরে প্রায় সময় কুলসুমাকে মারধর করেন। মারধরে তাঁদের সঙ্গে ছেলেরাও যোগ দেন। অনেকবার তাঁদের নিষেধ করা সত্যেও তাঁরা কারও কথা কর্ণপাত করেন না।’
নিহত কুলসুমার বড় জামাতা মো. ভুট্টু বলেন, ‘আমার শাশুড়িকে প্রায়ই তাঁর ভাশুরেরা মারধর করতেন। কিছুদিন আগেও আমার শাশুড়িকে ভাশুর ধন মিয়া ও আরস মিয়া বাড়ির জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারেন। আমরা একাধিকবার সালিস ডাকলেও তাঁরা কাউকে পাত্তা দেন না।’
কুলসুমা বেগমের ছেলে মো. সোহেল বলেন, ‘আমার জেঠা ধন মিয়া স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে বাড়ির জন্য জায়গা কেনেন। কিন্তু আরস মিয়া ও ধন মিয়া আমাদের কাছে জায়গা পাবেন বলে বিরোধ সৃষ্টি করেন। মাত্র দুই শতক জায়গা নিজেদের দাবি করে তাঁরা আমার মাকে মারধর করেন। তাঁদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমরা প্রায়ই সালিস ডাকতাম। কিন্তু তাঁরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ বিচার করতে আসত না।’
এ নিয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, কুলসুমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।