চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের হাটহাজারীতে বাস-সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে জমজ দুই ভাইসহ একই পরিবারের সাতজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিন নারী, তিন শিশু ও একজন পুরুষ রয়েছেন। তাঁরা সবাই অটোরিকশাযোগে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নানুপুর এলাকায় একটি অনুষ্ঠানে যাচ্ছিল।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে মহাসড়কের উপজেলার ৩ নং মির্জাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চারিয়া এলাকার বোর্ড স্কুলসংলগ্ন ইজতেমার মাঠের সমানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহজাহান। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের ওই দুর্ঘটনার ঘটনাস্থলে গিয়ে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর তাদের লাশ নাজিরহাট হাইওয়ে থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ওই দুর্ঘটনায় তিনজন পথচারী গুরুতর আহত হয়। তারা হলেন-চন্দনাইশ উপজেলার মোহাম্মদপুর ধোপা পাড়া, দুলাল মাস্টারের বাড়ির শশীল দাশের ছেলে বাপ্পা দাশ (২৮), ফটিকছড়ির বারমাসিয়া বৈদ্যরহাট এলাকার নেপাল দের ছেলে বিপ্লব দে (২৪) ও নুরজাহান বেগম (৫৫)।
ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের চারিয়া এলাকায় শহরগামী দ্রুতগতির পদক্ষেপ নামের একটি যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ফটিকছড়িগামী অপর একটি অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হয়।
এতে অটোরিকশাটি অনেক দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে। অটোরিকশায় থাকায় আরোহীরা রাস্তার ওপর ছিটকে পড়েন। এ সময় তিনজন নারী, তিন শিশু ও একজন পুরুষ ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আদিল মাহমুদ বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় বাসটিকে জব্দ করা হয়েছে। তবে বাসটির চালক পালিয়ে গেছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম মশিউজ্জামান।
এরপর থানা-পুলিশের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মরদেহ মহাসড়ক থেকে উদ্ধার করার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানান হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।