সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। আজ বুধবার (৬ মে) দুপুরে জাহাজটি বহির্নোঙরে ভেড়ে।
জাহাজটি থেকে জ্বালানি খালাস করে তা পরিশোধনের জন্য ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) নেওয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে জ্বালানির অভাবে গত ১২ এপ্রিল থেকে বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদনে ফেরার কথা রয়েছে।
দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র অপরিশোধিত জ্বালানি তেল শোধনাগার ইআরএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটি পূর্ণ জ্বালানিবোঝাই অবস্থায় রয়েছে। এই অবস্থায় সেটি মূল জেটিতে ভেড়ানো সম্ভব নয়। এ জন্য আজ রাত থেকে জাহাজটি থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি খালাস করে তা ছোট ট্যাংকারের (লাইটার ট্যাংকার) মাধ্যমে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে নেওয়া হবে। ওই তেল পরিশোধনের মধ্য দিয়েই দু-এক দিনের মধ্যে ইআরএল উৎপাদনে ফিরবে। আর বহির্নোঙরে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল খালাসের পর জাহাজটি কিছুটা হালকা হলে সেটি নিয়ে যাওয়া হবে পতেঙ্গার ডলফিন জেটিতে। সেখানে পুরো জ্বালানি খালাস করে ইআরএলে নেওয়া হবে।
ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত আজকের পত্রিকাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ১১ অথবা ১২ মে আরেকটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে চট্টগ্রামের পথে যাত্রা করবে। ২২ বা ২৩ মের মধ্যে জাহাজটির চট্টগ্রামে পৌঁছার কথা রয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে ইরানের হরমুজ প্রণালিতে অতিক্রম করতে না পারা এক লাখ টন ক্রুডবাহী এমটি নরডিক্স প্ল্যাক্স জাহাজটিও দেশে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে আসা জাহাজ এমটি নিনেমিয়া আজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। ১১ বা ১২ মে আরেকটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রামের পথে যাত্রা করবে। দুই লাখ টন ক্রুড অয়েল মে মাসেই দেশে পৌঁছাচ্ছে। এ ছাড়া আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
মাহমুদুল মালেক বলেন, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার কারণে আটকে পড়া এক লাখ টন ক্রুডবাহী এমটি নরডিক্স প্ল্যাক্স জাহাজটিও নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। সব মিলিয়ে আগামী অন্তত তিন মাস ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ক্রুডের কোনো সংকট থাকবে না।