চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীদের র্যাগ ডে অনুষ্ঠানের খাবার ও চাঁদা না পেয়ে চবির একটি হলের বাবুর্চিকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের ৩ কর্মীর বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের ক্যানটিনে এই ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার বাবুর্চির নাম আবুল হাশেম। তিনি সোহরাওয়ার্দী হলের বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত। অন্যদিকে অভিযুক্তরা হলেন—সাদ্দাম হোসেন, মো. মোখলেছ ও মো. মোরশেদ। তাঁরা সবাই শাখা ছাত্রলীগের বিজয় গ্রুপের কর্মী বলে জানা গেছে।
মারধরের শিকার আবুল হাশেম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মঙ্গলবার দর্শন বিভাগের র্যাগ ডে উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী হলের ডাইনিংয়ে দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হয়। ছাত্রলীগকর্মী সাদ্দামসহ তিনজন এসে পাঁচ প্যাকেট খাবার দাবি করে। এ সময় আমি তাদের বলি খাবার তো আমার না। আমার হলে অবশ্যই দিতাম। এর কিছুক্ষণ পর এসে তাঁরা বলে, খাবার না দিলে যেন ১ হাজার টাকা চাঁদা দিই। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁরা লাঠি ও খুন্তি দিয়ে আমার মাথায় ও পেটে মারধর করে। পরবর্তীতে আমি বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নিয়েছি।’
আবুল হাশেম আরও বলেন, ‘আমি পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেব। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’
বিজয় গ্রুপের নেতা মো. ইলিয়াস বলেন, ‘মারধরের কথা আমি শুনেছি। যারা মারধর করেছে, তারা এর দায়ভার নেবে। গ্রুপ এর সঙ্গে জড়িত না। আমি প্রশাসনকে বলে দিয়েছি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. শহীদুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মারধরের খবর শুনে সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। দায়িত্বরত অবস্থায় ছাত্রলীগকর্মীরা তাকে মারধর করেছে। আমরা দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব। পাশাপাশি পুলিশকেও ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’