আগামী ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে আসছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নগরের রেলওয়ের পলোগ্রাউন্ড মাঠে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে। সভায় পলোগ্রাউন্ড মাঠ ছাড়াও আশপাশের এলাকায়ও লোকে-লোকারণ্যে করার পরিকল্পনা নিয়েছে নগর আওয়ামী লীগ। তারা চাইছে সম্প্রতি নগর বিএনপির মহাসমাবেশে যে পরিমাণ লোক জমায়েত হয়েছে, তার চেয়েও বেশি লোক জমায়েত করতে।
কী পরিমাণ লোক সমাগম হবে তা বলতে না পারলেও, এটি নিশ্চিত যে পলোগ্রাউন্ড মাঠ ছাড়াও আশপাশের এলাকায়ও যাতে জনসমুদ্রে পরিণত হয় সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন। এই সভার মাধ্যমে নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থান জানিয়ে দেওয়া হবে।
আ জ ম নাছির বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামে আসছেন। এই জন্য সব রকমের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আমরা সফল একটি সমাবেশ করতে পারব। প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের মানুষের জন্য দুই হাত ঢেলে দিয়েছেন। নানান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড গ্রহণ করেছেন, ইতিমধ্যে অনেকগুলো প্রকল্প বাস্তবায়নও করেছেন। তার এই সফর চট্টগ্রামের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী ৪ ডিসেম্বর বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পলো গ্রাউন্ডে জনসভা করবে আওয়ামী লীগ। এতে দীর্ঘদিন পরে দলীয় কোনো সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে সশরীরে হাজির হয়ে বক্তব্য দেবেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দলীয় সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে ঢাকার বাইরে খুব একটা যাননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনার সময় সরকারি কিংবা দলীয় অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত হননি তিনি। বেশির ভাগ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।
এর আগে, গত ১৩ অক্টোবর পলোগ্রাউন্ড মাঠে জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, দলীয় কর্মসূচিতে গুলি করে নেতা-কর্মীদের হত্যার প্রতিবাদ এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে বিভাগীয় (দলের সাংগঠনিক বিভাগ) পর্যায়ে সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। এতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই সমাবেশে ৬ লাখ মানুষ জমায়েত হয় বলে দাবি করে বিএনপি।