লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের লরেন্স ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. সিরাজুল ইসলাম তাঁর বড় ছেলে মো. সাগরকে (২২) ত্যাজ্য করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে লক্ষ্মীপুর জজকোর্টে নোটারি পাবলিক করে তিনি ছেলেকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেন।
এ সময় ঘোষিত হলফনামায় সিরাজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, মো. সাগর তাঁর ঔরসজাত ও স্ত্রী শারমিন আক্তারের গর্ভজাত সন্তান। সে বাবা-মায়ের অবাধ্য হয়ে সমাজের অসৎ চরিত্রের লোকজনের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে নিজের চরিত্রের অধঃপতন ঘটিয়েছে। চাল-চলন আচার-ব্যবহার, কথাবার্তা ও পরিবারের লোকজনকে হত্যার হুমকিসহ নানা কর্মকাণ্ডের কারণে সিরাজ দম্পতি তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট। ইতিমধ্যে সাগর অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে ও দুই সন্তানের মাসহ চারটি বিয়ে করেছে। কিশোর গ্যাং দলের সদস্যদের সঙ্গে আড্ডায় লিপ্ত থাকে। তাতে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে পরিবারের।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, সাগরের এসব কাজের কারণে সিরাজকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হতে হচ্ছে। এসব ছাড়াও হত্যার হুমকির কারণে লক্ষ্মীপুর কোর্টে সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালত তাঁকে জেলে পাঠায়। পরবর্তী সময়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিলে ছেলেকে তিনি জমিনে মুক্ত করেন। কিন্তু জেল থেকে বের হয়ে আগের মতোই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে সে।
সিরাজুল ইসলাম হলফনামায় বলেন, ছেলের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেন তিনি। এ ঘোষণার পর সাগরের কর্মকাণ্ডের জন্য সিরাজ বা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য দায়ী থাকবে না। তা ছাড়া তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের আর কোনো সম্পর্ক থাকল না।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, আইনে এ ধরনের কোনো বিধান নেই। তবে যেহেতু সিরাজুল ইসলাম ছেলের অপকর্মের কারণে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন, তাই অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে তিনি এটি করেছেন।