সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে স্বামীকে তালাক দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে হত্যা করেছেন ওমর শরীফ নামের এক ব্যক্তি। পরে বিষপানের পর নিজের পেটে চুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ওমর। ওমর বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
জানা যায়, সংসারে বনিবনা না হওয়ায় সম্প্রতি ওমরকে তালাক পাঠান পেয়ারু বেগম (৪০)। এ খবর জানার পরও ওমর শরীফ পেয়ারুকে বুঝিয়ে আবার সংসার করতে চান। কিন্তু পেয়ারু সংসার না করার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। এমন অবস্থায় রোববার সকাল ৮টার দিকে ওমর মুরাদপুর উকিলপাড়ার ভাড়া বাসায় গিয়ে স্ত্রীকে সংসার করার জন্য চাপাচাপি করতে থাকেন। কিন্তু স্ত্রী পেয়ারু সম্পর্ক রাখবেন না জানিয়ে দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওমর স্ত্রীর পেটে ধারালো ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এ সময় তার পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে গেলে শরীফ পালিয়ে যান। পরে প্রতিবেশীরা পেয়ারুকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) ভর্তি করান। রাতে তাঁর অপারেশন করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল ৭টায় তার মৃত্যু হয়।
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন বণিক জানান, রোববার সকালে পেয়ারুকে আঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার পরে রাতে বিষপান ও নিজের পেটে চুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ওমর। গুরুতর আহত ওমরকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন তাঁর স্বজনেরা। সোমবার ভোরে পেয়ারুর মৃত্যুর পর থেকে ওমরকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে স্থানান্তর করে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সীতাকুণ্ড মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) টিবলু কুমার মজুমদার বলেন, এ ঘটনায় পিয়ারু বেগমের ভাই মফিজুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেছেন। অভিযুক্ত ওমর শরীফও বিষপানের পর নিজের পেটে চুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। তাঁকে পুলিশি হেফাজতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে সীতাকুণ্ড পৌরসভার মৌলভীপাড়ার আবুল বশারের মেয়ে পেয়ারু বেগম ও সন্দ্বীপ উপজেলার রহমতপুর এলাকার মোহাম্মদ মোস্তফার ছেলে ওমর শরীফের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে ছয় ও চার বছর বয়সী দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে বেশ কিছুদিন ধরে নানা কারণে তাঁদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় আলাদা বসবাস করছিলেন।