চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতুতে একটি লাইটার জাহাজের ধাক্কা দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সেতুর নগর প্রান্তে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পর জাহাজটিকে জব্দ করা হয়েছে। এ নিয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহিদুল ইসলাম।
এ ঘটনায় সেতুর স্ট্রাকচারে কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে তা তদন্ত করে দেখার পর বলা যাবে বলে জানিয়েছে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে এবং নৌ–পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম নৌ–থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরাম উল্লাহ বলেন, কালুরঘাট সেতুতে ধাক্কা দেওয়া এমভি সামুদা-১ নামের জাহাজটি কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত একটি ডক ইয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। নদীর মধ্যে বাঁক ঘোরানোর সময় তীব্র বাতাস আর জোয়ারের কারণে এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং বাতাসের তোড়ে ভাসতে ভাসতে কালুরঘাট সেতুতে এসে ধাক্কা খায়।
এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সেতু প্রকৌশলী জিসান দত্ত বলেন, ‘আমরা সেতুটি পরিদর্শন করে দেখছি। কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।’
রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম শহিদুল ইসলাম জানান, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তরফে ওই জাহাজ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।
একই বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবু জাফর মিয়া জানান, ‘জাহাজের ধাক্কায় কালুরঘাট সেতুর তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। চট্টগ্রাম কক্সবাজার রেল চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে মূল স্ট্রাকচারে কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে তা তদন্ত করে বের করা হচ্ছে।’
১৯৩০ সালে নির্মাণ করা হয় কালুরঘাট রেলওয়ে সেতু। পরে ১৯৬২ সালে ওই সেতুর ওপর দিয়েই সড়ক পথের যান চলাচল শুরু হয়। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রেললাইন চালুর আগে সেতুটিতে সংস্কার কাজ শুরু হয়। এখনো সংস্কার কাজ চলছে। বর্তমানে কম গতিতে ট্রেন চলাচল করলেও সেতু দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ২০০১ সালে এই সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। পরে ২০১১ সালে সেতুটিকে চুয়েটের একদল গবেষক আরও একবার ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে।