সরকারি একটি প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা ছিল চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদের কুলগাঁও এলাকার দিনমজুর মো. দেলোয়ার হোসেনের (৬৫)। ক্ষতিপূরণের ওই টাকা পেতে তিনি জীবনের শেষ পাঁচ বছর কাটিয়েছেন ডিসি অফিস, ভূমি অফিস আর আদালতের বারান্দায় ঘুরে ঘুরেই। তাও ওই টাকা পাননি। ওই আক্ষেপের মধ্যেই আজ শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান দেলোয়ার।
দেলোয়ারের পরিবারের দাবি, বিনা চিকিৎসা, মিথ্যা মামলাসহ নানা হয়রানির চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি সকালে স্ট্রোক করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকেরা তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘হাইপারটেনসিভ ইমার্জেন্সি’ (উচ্চ রক্তচাপজনিত জরুরি অবস্থা) এবং মৃত্যুর ধরন ‘ডিজেইজ’ উল্লেখ করেছেন।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন কিডনি ও ডায়াবেটিসে ভুগলেও আর্থিক সংকটে চিকিৎসা করাতে পারেননি দেলোয়ার।
চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় কুলগাঁও মৌজায় দেলোয়ারের বাবার (মৃত মোহাম্মদ হোসেন) নামে থাকা ৭ শতক জমি অধিগ্রহণ করে সরকার, যার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ হয় ২ কোটি টাকা। অথচ স্থানীয় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সাবেক কাউন্সিলর সাহেদ ইকবাল বাবুর নেতৃত্বাধীন একটি চক্র একই জমি নিজেদের দাবি করে জাল ওয়ারিশ সনদ তৈরি, যেখানে আসল ওয়ারিশের স্থানে দেখানো হয় ভিন্ন ৯ জনকে।
পরে এই ভুয়া ওয়ারিশ সনদ ব্যবহার করে হাটহাজারী ভূমি অফিসে নামজারি ও খতিয়ান তৈরি করা হয়। সেই খতিয়ান থেকে জমিটি জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়া হয় মো. হানিফ নামের চক্রটির আরেক সদস্যের কাছে। যিনি পরে ভূমি অধিগ্রহণ অফিসে ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন। এ ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন চট্টগ্রাম আদালতে মামলা করেন। এতে আসামি করা হয় কাউন্সিলরসহ একাধিক ব্যক্তিকে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হয় এবং সিআইডির প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়।