চট্টগ্রামে কাপড়ের বৃহৎ পাইকারি বাজার টেরিবাজারে অভিযানে গিয়ে ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়েছে কোস্ট গার্ড। এ সময় তাদের অবরুদ্ধ করে ‘ভুয়া’, ‘ভুয়া’ স্লোগান দেন বাজারের দোকানমালিক ও কর্মচারীরা। গতকাল মঙ্গলবার রাতে একটি কাপড়ের শোরুমে অভিযানের সময় এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অবৈধভাবে কাপড় আমদানির গোপন তথ্য পেয়ে রাত ১১টার দিকে কোস্ট গার্ডের একটি দল টেরিবাজারে ‘বধূয়া’ শোরুমে অভিযান চালায়। দোকানটিতে বিপুল পরিমাণ বিদেশি কাপড় রাখা ছিল। কোস্ট গার্ড সেসব কাপড় জব্দ করতে চাইলে তাতে বাধা দেন ব্যবসায়ীরা।
এ সময় বাইরে কয়েক শ দোকানমালিক ও কর্মচারী জড়ো হন। তাঁরা কোস্ট গার্ড সদস্যদের অবরুদ্ধ করে ভুয়া, ভুয়া বলে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন কোস্ট গার্ড সদস্যরা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, বৈধভাবে আমদানি করা এসব কাপড়ের কাগজপত্র দেখানোর পরও কোস্ট গার্ড সদস্যরা সেগুলো জব্দ করতে চাইলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
জানতে চাইলে টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে টেরিবাজারে বধূয়া নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কিছু মালপত্র এসে পৌঁছায়। সে সময় কোস্ট গার্ড বাহিনীর সদস্যরা এখানে চলে আসেন। পরে আমরা বৈধভাবে আমদানি করা এসব মালপত্রের সমস্ত কাগজ কোস্ট গার্ড বাহিনীকে দেখাই। কিন্তু তাঁরা সেটা মানতে রাজি নন। কাপড়গুলো জব্দ করতে চেয়েছিলেন। এটা নিয়ে এখানকার ব্যবসায়ী-কর্মচারী যাঁরা আছেন, তাঁদের মধ্যে একটু উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল; অন্য কিছু না। একপর্যায়ে উনাদের সঙ্গে কথাবার্তা হয় কাস্টমসে গিয়ে মালপত্রের বৈধতা যাচাই করার বিষয়ে।’
ব্যবসায়ী সমিতির এই নেতা বলেন, ‘সরকারি বাহিনীর কাজে আমরা কোনো বাধা দিইনি। উনারা দায়িত্ব পালন করবেন, সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা এখানে যারা ব্যবসায়ী আছি, তারাও যাতে অযথা কোনো হয়রানির শিকার না হই, সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।’
এ বিষয়ে কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য পেয়ে মঙ্গলবার রাতে আমাদের টিম টেরিবাজারে অভিযানে গিয়েছিল। অভিযান চলমান ছিল। এরপর সেখানে কী হয়েছে, বিস্তারিত এখনো জানতে পারিনি।’