হাটহাজারী (চট্টগ্রাম): স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হেফাজতে ইসলামের নেতা কর্মী ও মাদ্রাসা ছাত্রদের সহিংসতা পুলিশের খোয়া যাওয়া একটি পিস্তল ও ১৬ রাউন্ড গুলিসহ উদ্ধার করেছে থানা–পুলিশ।
গত রোববার (৬ জুন) বিকেলে হাটহাজারী পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড মিরের খিল গ্রামের নবীর বাড়ি এলাকায় পাকা দেয়ালের বাউন্ডারির ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় গুলি ও পিস্তলটি উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের বিষয়টি রাত পৌনে ১০টায় আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাদাৎ হোসেন।
জানা গেছে, গত ২৬ মার্চ ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বিরোধী বিক্ষোভে পুলিশ ও সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটনার রেশ ধরে হেফাজত দুর্গ খ্যাত চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিক্ষুব্ধরা থানা ভবন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস এবং ডাকবাংলোয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়।
ওই সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মাদ্রাসা ছাত্র ও পথচারীসহ ৪ জন নিহত হয়। এ ঘটনার জের ধরে বিক্ষুব্ধ মাদ্রাসা ছাত্ররা ৪ পুলিশ কর্মকর্তাকে অবরোধ করে মারধর করে। তাদের মধ্যে এএসপি (শিক্ষানবিশ) প্রবীর ফারাবী ও এসআই মেহেদী হাসানকে পিটিয়ে গুরুতর আহত হন। এ সময় বিক্ষুব্ধরা এসআই মেহেদীর কাছ থেকে একটি পিস্তল ও গুলি ছিনিয়ে নিয়েছিল বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, এসব ঘটনায় হাটহাজারী মডেল থানায় মোট ১০টি মামলা রুজু হয়। এর মধ্যে ৩টি মামলায় সুনির্দিষ্ট করে আসামি করা হয়েছে ১৪৯ জনকে। দুটি মামলা সুনির্দিষ্ট আসামিদের মধ্যে রয়েছে হেফাজতে ইসলামের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আমির ও বর্তমান আহ্বায়ক জুনায়েদ বাবুনগরী। এ ছাড়া হেফাজত নেতৃবৃন্দের নাম থাকলেও অন্য মামলাগুলোতে রয়েছে জামাত-বিএনপি’র নেতা কর্মী ও সাধারণ মানুষ। এতে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে প্রায় ৬ হাজার ২৫০ জনকে।