কক্সবাজারের চকরিয়ায় হত্যা চেষ্টা ও চুরির মিথ্যা মামলা দিয়ে তিন ছাত্রকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে না থেকেও মামলা করা হয়েছে কক্সবাজার সরকারি কলেজের বিবিএস তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফুল হাসান (২৫), তাঁর ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফিশারিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবিদুল হাসান (২৩) ও তাঁদের ছোট ভাই রামিম হাসানকে (১৬)।
গত ৫ নভেম্বর সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের পূর্ব সুরাজপুর গ্রামের মোহাম্মদ আবুল হাশেম বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলায় সাবেক সেনাবাহিনীর সদস্য নুরুল আমিনকে (৫৫) প্রধান আসামি ও তাঁর তিন ছেলেকে আসামি করা হয়। এ ছাড়া আরও চার থেকে পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি দেখানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে জানা গেছে, জমি নিয়ে পূর্ব সুরাজপুর গ্রামের নুরুল আমিনের সঙ্গে মোহাম্মদ আবুল হাশেমের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ৫ নভেম্বর সকালে স্টেশনে যাওয়ার পথে আবুল হাশেমের ওপর হামলা করেন নুরুল আমিন। এ সময় তিনি আঙুলে আঘাত পান। মোবাইল ও নগদ টাকা হরানোর দাবি তোলেন।
শিক্ষার্থী আসিফুল হাসান বলেন, ‘যেদিন আবুল হাশেমের নেতৃত্বে আমার বাবা-মায়ের ওপর হামলা হয় সেদিন আমিসহ দুই ভাই পৌরশহরের ভাড়া বাসায় ছিলাম। মারধরের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। তখন আবুল হাশেম গ্যাং কেউই ছিলেন না। ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থেকেও আমাদের তিন ভাইকে আসামি করা হয়েছে।’
আসিফুল আরও বলেন, ‘ছোট ভাই রামিম হাসান চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের ছাত্র। সে এসএসসির টেস্ট পরীক্ষার্থী। তাঁকেও আসামি করা হয়। তাঁরা মিথ্যা মামলা সাজিয়েছেন।’
রামিম হাসান বলে, ‘আমি এখনো স্কুলে পড়ি। আমার বয়স এখনো ১৫ বছর। কিন্তু ১৮ বছর দেখিয়ে মিথ্যা মামলায় আসামি করেছে। অথচ ঘটনার সময় আমি সুরাজপুরেই ছিলাম না।’
রাবি শিক্ষার্থী আবিদুল হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ছুটিতে চকরিয়া আসি। ঘটনা সময় আমি ১৮ কিলোমিটার দূরে চকরিয়া পৌরশহরে ছিলাম। উদ্দেশ্য করে আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।’
নুরুল আমিন বলেন, ‘সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মগপাড়াবিলে আমার ২১ শতক জমি আছে। আবুল হাশেম সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ৫ নভেম্বর দখল করতে আসলে বাধা দিলে তাঁরা হামলা করলে আমি ও আমার স্ত্রী আহত হই। আমরা থানায় মামলা করলে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল পড়ুয়া তিন ছেলেকে আসামি পাল্টা মামলা করেছেন।’
মামলার বাদী আবুল হাশেম বলেন, ‘তাঁরা তিনজন ছাত্র কিনা আমার জানা নেই। আসামিরাও আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এখন হাসপাতালে আছি, আমি এ ঘটনায় ন্যায় বিচার চাই।’
এ ব্যাপারে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মানিক কুমার বলেন, ‘মামলাটি নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে।’
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘তদন্ত করে কোনো ছাত্রকে আসামি করা হলে তাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।